রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : কসমেটিক পরিবর্তন দিয়ে বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রথমে মানুষের অন্তরের পরিবর্তন দরকার।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। ‘ফিরে দেখা রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট : প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি’ শীর্ষক কথকতার আয়োজন করে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।মঈন খান বলেন, আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবর্তন শুধু পরিবর্তনের জন্য নয়। কোনটা বিভেদ, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণের পথকে দীর্ঘায়িত করলে দেশের মানুষ আবার জেগে উঠবে বলে মন্তব্য করেন আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, দীর্ঘ পনেরো-ষোলো বছর ধরে বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলো যে আন্দোলন করেছে, সেই প্রত্যাশা কি পূরণ হয়েছে? দীর্ঘ এক বছরে হয়নি। কেন হয়নি? আমরা তো অতীতে উদাহরণ দেখেছি। ৯০ দিনের ব্যবধানে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। আমাদের চোখের সামনে সেই উদাহরণ আছে। তাহলে কি আমরা সেই প্রশ্ন করতে পারি না? দীর্ঘ এক বছরের ব্যবধানে কেন আমরা উত্তরণ করতে পারিনি? আজকে আমাদের জবাবদিহি করারও প্রয়োজন আছে।
তিনি বলেন, আমার মাঝে মাঝে মনে হয় নতুন বন্দোবস্ত আবার যেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত না হয়ে যায়। আমরা পরিবর্তন চাই তবে সব পরিবর্তন কিন্তু পরিবর্তন নয়। ১/১১ এর সময় ঢাকা শহরের প্রত্যেক জায়গায় একটি গোষ্ঠী ব্যানার-ফেস্টুন করেছিল- সবকিছু বদলে দাও, পালটে দাও। পৃথিবীর সবকিছু বদলে দেওয়া যায় না, পালটে দেওয়া যায় না, সেটা আমি তখনো বলেছিলাম। বিভেদ কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। অন্যথায় আমাদের সেই সব প্রচেষ্টা ভুলে পরিণত হবে এবং তাই হচ্ছে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, অতীতে তিন মাসের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন করেছে। অথচ গত এক বছর পরও কোনো নাগরিক এখন পর্যন্ত আস্থা রাখতে পারছেন না, কোথায় কোন পরিবেশে অবাধ সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন করতে পারব কিনা। পুরো জিনিসটা এভাবে ছড়িয়ে ফেলবে বর্তমান সরকার সেটা বুঝতে পারিনি। বৈষম্য তো বিলোপ হয়নি, বৈষম্য ছড়িয়ে পড়েছে। দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে, না খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। কর্মহীনতা বেড়েছে। বিনিয়োগের পরিস্থিতি একটা নেতিবাচক জায়গায় এসে পৌঁছেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের কথা সবাই বললেও কেউ শহীদদের ধারণ করছে না বলে মন্তব্য করেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গল্প অনেকটা একাত্তরের গল্পের মতো হয়ে যাচ্ছে। সবাই বলছে, কিন্তু শহীদদের কেউ ধারণ করছে না। এসব চিহ্ন দেখলে মনে হয়, প্রকৃতপক্ষে নতুন বন্দোবস্ত হচ্ছে না। বরং আমরা পুরোনো ধারায় থেকে যাব। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো শহীদের সঠিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল।
ফ্যাসিবাদী সময়ের নির্যাতন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সুসংগঠিত করেছিল উল্লেখ করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যদিও জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা সেই কঠিন সময়ের কথা ভুলে গিয়েছি। এখন সবাই মাস্টারমাইন্ড হতে চায়। তাই বলতে চাই, ইতিহাস থেকে আমাদের বুঝতে হবে। যারা মাস্টারমাইন্ড হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন আপনাদের ভিলেন হতে না হয়।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিভিন্ন পেশাজীবীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। কিন্তু জুলাই পরবর্তী সময়ে সেটার স্বীকৃতি হয়নি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মীর মোফাজ্জল হোসেন, বহ্নিশিখা জামালী, একাত্তর টিভির হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ প্রমুখ।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ