আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :
ভারত পুরো দেশে সক্রিয় সকল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মকে পাকিস্তানে তৈরি কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে বলেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল উত্তেজনার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ। বৃহস্পতিবার (৮ মে) ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে’ এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটি ওটিটি, মিডিয়া স্ট্রিমিং ও পডকাস্ট সহ সমস্ত ডিজিটাল মাধ্যমের জন্য প্রযোজ্য।
এপ্রিলে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রে ঘটা এক রক্তক্ষয়ী হামলায় ৯ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়, যেটির জন্য ভারত পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলিকে দায়ী করে। ওই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক এবং মিডিয়া-ভিত্তিক উত্তেজনা তীব্রতর হতে থাকে। এর মধ্যে কিছু পাকিস্তানি অভিনেতা ও সঙ্গীতশিল্পীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করা হয়েছে, যার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই পাকিস্তানও ভারতের কিছু মিডিয়া অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ভারতের সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে: ‘ওয়েব-সিরিজ, চলচ্চিত্র, গান, পডকাস্ট এবং অন্যান্য স্ট্রিমিং মিডিয়াতে পাকিস্তান থেকে উৎপাদিত কোনো কনটেন্ট, যা ভারতের নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা বা সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সেগুলি অবিলম্বে বন্ধ করতে বলা হচ্ছে।’
এই নির্দেশ নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস, স্পটিফাই, অ্যামাজন প্রাইম, এপল মিউজিকের মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি স্থানীয় স্ট্রিমিং সেবাগুলোর জন্যও প্রযোজ্য। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক এবং ফ্রি-টু-অ্যাক্সেস উভয় ধরনের প্ল্যাটফর্মকে এর আওতায় আনা হয়েছে।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে, যদি কোনো প্ল্যাটফর্ম এই নির্দেশ মানতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যদিও সরকার এখনো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেনি কোন কোন নির্দিষ্ট কনটেন্ট বা শিল্পী এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছেন। তবে সূত্র মতে, পাকিস্তানি প্রযোজিত বেশ কিছু ওয়েব সিরিজ ও মিউজিক ভিডিও ইতিমধ্যেই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত মূলত অভ্যন্তরীণ জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং কনটেন্ট বিনিময়ের ওপর পড়বে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেগুলি তাৎক্ষণিকভাবে কেউ মন্তব্য করেনি।
এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অঞ্চলজুড়ে ডিজিটাল পরিসরে বাকস্বাধীনতা, ক্রস-বর্ডার সংস্কৃতি বিনিময় এবং সৃজনশীল সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পাকিস্তান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে দেশটির গণমাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অযৌক্তিক ও প্রতিহিংসাপরায়ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের সিদ্ধান্ত অঞ্চলজুড়ে নতুন ধরণের ‘সাংস্কৃতিক ব্লকেড’ এর সূচনা করছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব