রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম বলেছেন, বাংলাদেশে আর আগের মতো গতানুগতিক একদলীয় নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই। জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (চজ) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীতে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে দেশে যে ধরনের নির্বাচন হয়ে আসছে, তা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় না। বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাতেই পরিবর্তন আনতে হবে।
নায়েবে আমির বলেন, পিআর পদ্ধতিতে দলভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। এতে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলগুলোরও অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে সংসদ হয়ে ওঠে সত্যিকার অর্থে জনগণের কথা বলার স্থান।
তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে হলে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল সংস্কার দরকার। এই সংস্কারের মূল অংশ হিসেবে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চালু করা এখন সময়ের দাবি।
সভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, পিআর পদ্ধতির নির্বাচনে শুধু বড় দল নয়, জনসমর্থন থাকা ছোট দলগুলোরও সমান সুযোগ থাকে। এটাই প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র।
প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সব সংসদ নির্বাচন প্রথমে আগমনকারী জয়ী পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতে একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী জয়ী হন, যদিও তিনি মোট ভোটের অর্ধেকেরও কম পেতে পারেন। সমালোচকরা বলেন, এতে অনেকাংশেই ভোটের অপচয় হয় এবং ছোট দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব বঞ্চিত হয়।
আন্তর্জাতিক অনেক গণতান্ত্রিক দেশ যেমন জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও সুইজারল্যান্ডে—পিআর পদ্ধতির বিভিন্ন রূপ চালু রয়েছে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ও বহুমতের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম