রিপোর্টার্স ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, ভারতের যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে পাকিস্তান এবার একেবারে ভারতের “গভীরে” হামলা চালাবে।
“পূর্ব দিক থেকেই হামলা শুরু করব”—আইএসপিআর মহাপরিচালক
যুক্তরাজ্যের সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট–এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, “ভারতের বোঝা উচিত, পাকিস্তান তাদের যেকোনো স্থানে আঘাত হানতে সক্ষম। এবার আমরা ভারতের পূর্ব দিক থেকেই হামলা শুরু করব।”
এই সাক্ষাৎকারকে ঘিরে পাকিস্তানের দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে কাশ্মীর পরিস্থিতি ও মোদির বক্তব্যের পটভূমিতে পাকিস্তানের এ হুঁশিয়ারি এসেছে।
চারদিনের যুদ্ধ ও দুই দেশের পাল্টা হামলা
চলতি বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক হামলায় ২৬ জন নিহত হন। ভারত পাকিস্তানকে দোষারোপ করলে, মে মাসে প্রথমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনইয়ান-উন-মারসুস’ নামের সামরিক অভিযানে ভারতের একাধিক অঞ্চলে হামলা চালায়। ৮৭ ঘণ্টা স্থায়ী সংঘাত শেষ হয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায়।
পাকিস্তান এই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক সামরিক বিজয়’ দাবি করে এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। এরপর তাঁর রাজনীতিতে আগ্রহ ও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে গুজব ছড়ালেও তা ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেন আইএসপিআর মুখপাত্র।
পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক স্থাপনাই মূল লক্ষ্য
আইএসপিআর মহাপরিচালকের বক্তব্য ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যম ও সরকারি মহলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। এমনকি বাংলাদেশকে নিয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা ‘উদ্ভট’ ও ‘মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, “ভারতের পূর্বাঞ্চলে হামলা” বলতে মূলত কলকাতা, পাটনা, রাঁচি, জামশেদপুর, বোকারো, ভুবনেশ্বর, রাউরকেলা—এই অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোকেই বোঝানো হয়েছে। এসব শহরে শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে।
এক বিশ্লেষক বলেন, “এসব স্থানে হামলার অর্থ হচ্ছে সীমান্তের বাইরে, ভারতের গভীরে সরাসরি আঘাত হানা—যা সীমান্ত সংঘাতের চেয়ে অনেক বড় বার্তা বহন করে।”
“শান্তিকে দুর্বলতা ভাবার সুযোগ নেই”—পাকিস্তান
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, দেশটি একটি শান্তিপ্রিয় রাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কেউ যেন এ শান্তিকে দুর্বলতা না ভাবে, এমন সতর্ক বার্তাও দিয়েছেন আইএসপিআর মুখপাত্র।
এস