ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক :
সুনামগঞ্জ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার রংডাঙাই গ্রাম থেকে ৫ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও রাজ্য পুলিশ । আটককৃতরা হলেন-জামালপুরের জাহাঙ্গীর আলম, একই জেলার সাবেক পুলিশ কনস্টেবল মারফুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের সায়েম হোসেন এবং কুমিল্লার মেহফুজ রহমান। অপর একজনের নাম জানা যায়নি। আটককৃতদের মধ্যে মারফুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে শিলং সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আটককৃতদের কাছ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের আইডি কার্ড, হাতকড়া, পিস্তল হোলস্টার, ম্যাগাজিন কভার, রেডিও সেট, মোবাইল ফোন, মুখোশ, কুঠার, তার কাটার যন্ত্র, বাংলাদেশি মুদ্রা ও ভারতীয় মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত থেকে তাদের আটকের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। আটকদের মধ্যে তিনজন নিজেদের আওয়ামী লীগের কর্মী দাবি করেন।
এদিকে মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছেন, মেঘালয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলস জেলার সীমান্ত গ্রামে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা ডাকাতিতে জড়িত ছিলো। আট থেকে নয়জনের সশস্ত্র গ্যাঙের সদস্য ৭ আগস্ট মধ্যরাতে রংদানগাই গ্রাম হয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করে। এক স্থানীয় দোকানদারের ওপর হামলা চালিয়ে দোকান থেকে নগদ অর্থ এবং মূল্যবান সামগ্রী লুট করে ফের সীমান্ত অতিক্রম করে পালিয়ে যাচ্ছিলো।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশি সশস্ত্র ডাকাতরা পালিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পিছু ধাওয়া করে চার ডাকাতকে আটক করে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম খাসি হিলসের পুলিশ সুপার বি জাইরওয়া জানিয়েছেন, শনিবার রাতে চিবাক বনাঞ্চলে পুলিশ এবং বিএসএফের যৌথ অভিযানে আরও একজনকে পাকড়াও করা হয়েছে।
এই ডাকাত দলের গ্যাং লিডার বাংলাদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। গ্রামবাসী এবং বিএসএফ-এর অভিযানের সময় ডাকাত দলের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে বাংলাদেশি ডাকাত দলের গ্যাং লিডার মারফুর গুরুতর আহত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করে অপরাধ দমনে সীমান্তে ফেন্সিংয়ের কাজ চলছে। বাকি ডাকাতদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনী জোর তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
তবে মেঘালয় পুলিশ জানিয়েছে, আটকদের একজন জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তক্ষক শিকার করতে গিয়েছিলেন। অন্য তিনজন জানান, তারা দেশে রাজনৈতিক মামলার মুখোমুখি হওয়ায় আশ্রয়ের জন্য ভারতে গিয়েছিলেন। বিষয়টি যাচাই-বাচাই করে দেখা হচ্ছে।
বিজিবি সুনামগঞ্জ-২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একে এম জাকারিয়া কাদির জানান, তাদের ভারত সীমান্ত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার ভেতর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা ৬-৭ জনের একটি দল হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের উদ্দেশ্য ‘অসৎ’ ছিল। বিজিবি ও বিএসএফ বিষয়টি নিয়ে সমন্বয় করছে।
সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জাকির হোসেন জানান, আটক মারফুর রহমান এক সময় ঢাকায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কাজ করতেন। তবে পরে চাকরি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।