রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক :
সিলেটের সাদাপাথরকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) রাতের মধ্যে জব্দকৃত ১২ হাজার ঘনফুট পাথর সাদাপাথরে বিছিয়ে দেওয়া হয়। এ কাজে উপজেলা প্রশাসন ও যৌথবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
এর আগে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কালাইরাগ এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ পাথর জব্দ করে। কলাবাড়ি এলাকায় পাথর ভাঙার যন্ত্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে রাতেই পাথরগুলো ফিরিয়ে আনা হয়।
প্রশাসনের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহার জানান, জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সহায়তা করেছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় সেনারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থেকে অভিযান পরিচালনা করে।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে এক সমন্বয় সভায় সাদাপাথর রক্ষায় পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—
লুটপাটের পটভূমি
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ধলাই নদের উৎসমুখে প্রায় ১৫ একর এলাকা জুড়ে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র অবস্থিত। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই এখানে লাগামহীন পাথর লুট চলে আসছে। সম্প্রতি মেঘালয়ের ঢলে বিপুল পাথর আসার পর এক সপ্তাহের মধ্যে এলাকার প্রায় ৮০% পাথর তুলে ফেলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ—এ সময়ে কয়েকশ কোটি টাকার পাথর, বালু ও মাটি লুট হয়েছে।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ
পাথর লুটে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তিনি অস্বীকার করলেও সোমবার কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। স্থানীয় বিএনপির আরও কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় এসেছে।
আইনি পদক্ষেপ
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
এদিকে, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা ব্যাখ্যা করার জন্য রুল জারির আবেদনও করা হয়েছে। রিটটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর একেএম নূরুন নবী।
এস