সিনিয়র রিপোর্টার : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে। যারা বলছে ফেব্রুয়ারিতে ভোট হবে না, সেটা তাদের বিষয়। কিসের ভিত্তিতে কিংবা কোন ক্ষমতা বলে উনি বললেন, তাকে জিজ্ঞাসা করেন। সেটা বিএনপির জানা নেই।
রোববার (১৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি। এর আগে বিকেলে ’আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
না ভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, না ভোটের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব করেনি বিএনপি। আমাদের দেশে না ভোট পড়ে না । না ভোটের বিষয়টি আইনে পরিণত হয়নি। এখন আবার না ভোটের প্রস্তাব করা হচ্ছে। এটা আমাদের প্রস্তাব না।
আসন ভাগাভাগির বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আসন ভাগাভাগির কোনো বিষয় নেই। যুগপৎ আন্দোলনে যারা একসঙ্গে ছিল সবাই ভোটে অংশ নেবেন। তবে এখনও আসন ভাগাভাগি নিয়ে দলে কোনো আলোচনা হয়নি। তফসিলের পর আসন ভাগাভাগির বিষয় আসবে।
তিনি আরও বলেন, ইসি তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি যথাযথভাবে নিচ্ছে। তবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের কিছু উদ্বেগ আছে। বিএনপিও মনে করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল হয়েছে, কিন্তু নির্বাচন কয়েক মাস পরে হওয়ায় এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, ইসি জানিয়েছে, প্রয়োজনে তারা নির্বাচনে অধিক সংখ্যক সেনা সদস্য এবং সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ করবে। বিএনপিও রাজনৈতিক দল হিসেবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
প্রবাসীদের ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যাদের এনআইডি এবং ই-পাসপোর্ট আছে, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বিএনপি সাধারণ পাসপোর্টধারীদেরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ জানিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ভুয়া পাসপোর্টধারীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দিয়েছে।
সীমানা পুনর্নিধারণ প্রসঙ্গে নজরুল বলেন, ইসি নির্বাচনী এলাকার ভৌগোলিক অখণ্ডতা জেলা ও উপজেলার অথণ্ডতা এবং ভোটার সংখ্যাকে মূলনীতি হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সীমানা নির্ধারণের কাজ করছে। আইন অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ জানানোর সুযোগ নেই। কেবল সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরাই অভিযোগ জানাতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি সংশোধনের বিষয়ে তিনি আরও জানান, ইসি তাদের প্রস্তাবিত আচরণবিধির খসড়া বিএনপির কাছে পাঠিয়েছিল, যার ওপর বিএনপি তাদের মতামত দিয়েছে। এখন ইসি সেই মতামত পর্যালোচনা করছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন