স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার পাশে দাঁড়ানো ছিলেন জুলাইয়ে নিহত মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। ২০২৪ এর ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় মারা যান সৈকত।
সেই অনুষ্ঠানের পর থেকে নিজের ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন এই তরুণী। ফেসবুক পেজে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
সেবন্তী লেখেন, ‘অনেক বিরক্তি নিয়ে পোস্টটা লিখছি! গত কিছু মাসে, বিশেষ করে ৫ আগস্টের ঘোষণাপত্র পাঠের অনুষ্ঠানের পর থেকে, মিনিমাম হাজারখানেক কল আসছে বিভিন্ন আবদার নিয়ে। কলগুলো আবার আমার বা আমার আব্বুর পরিচিত মানুষজনই করেছে!!’
‘আবদারগুলোও অনেক অদ্ভুত- বাড়িতে জমিজমা নিয়ে সমস্যা, প্রধান উপদেষ্টাকে বলতে হবে। সরকারি চাকরি করতে চায়, প্রধান উপদেষ্টাকে বলে ব্যবস্থা করে দিতে হবে। ব্যবসা করবে, টাকা নাই, টাকা দিতে উপদেষ্টাদের বলতে হবে।’
‘বিভিন্ন উপদেষ্টাকে বলে বদলি করিয়ে দিতে হবে (এই আবদার কয়েকশ)। বিভিন্ন উপদেষ্টাকে বলে প্রোমোশন করিয়ে দিতে হবে (এই আবদারও কয়েকশ)। সরকারি প্রজেক্ট পাইয়ে দিতে হবে। পাওনা টাকা আদায় করিয়ে দিতে হবে।’
‘বিদেশে যাওয়ার জন্য ভিসা দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি, মনেও নাই সব। এসব করতে আমাকে কয়েক লাখ করে টাকা অফার করা হয়েছে, যেগুলো নিলে মোটামুটি ১০-১৫ কোটি টাকার মালিক হয়ে যেতাম!!’
তিনি লেখেন, সবাইকে যখন আমি উত্তর দিই, আমার দ্বারা এসব হবে না, আমার সঙ্গে কারো যোগাযোগ নেই, থাকলেও আমার দ্বারা কাওকে এসব বলাও সম্ভব না। তখন জবাবে শোনা লাগে, আমি কারোর উপকার করতে ইচ্ছুক নই, মানুষের ভালো চাই না!’
‘শোনেন, আমাকে কেউ ব্যক্তি সেবন্তি হিসেবে চেনে না, শহীদ সৈকতের বোন সেবন্তি হিসেবে চেনে! ভাবুন একবার, আমি উপদেষ্টাদের কাছে এসব আবদার নিয়ে যাব, তারা আমাকে কী ভাববে? শহীদ সৈকতের বোন ধান্দাবাজি করছে! এই কথা আমি নিতে পারব না!’
তিনি লেখেন, আমার ভাই এর নাম বেঁচে আমি কোনো ধরনের কাজ করতে ইচ্ছুক না! প্লিজ আমাকে বদার করা অফ করেন! আমি আগেও গরিব ছিলাম, এখনো গরিব, আমার কোনো উন্নতি হয়নি, আমি নেতা হইনি, আমার ক্ষমতা হয়নি, কিচ্ছু না! আমাকে এ ধরনের কথা বলে প্লিজ বিরক্ত করবেন না কেউ।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব