| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের আগে কী ঘটেছিল, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬ ইং | ১৯:৪৭:৪৮:অপরাহ্ন  |  ৯৪৮৭ বার পঠিত
প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের আগে কী ঘটেছিল, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

আপিল বিভাগে আসলে কী ঘটেছিল, কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এবং কেন প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ঘটনাটির সূত্রপাত ২০১৩ সালে একটি কাজী নিয়োগকে কেন্দ্র করে। ওই ঘটনায় মামলার বাদী একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে পাঁচটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রুলসে বলা আছে, কোনো মামলা আগে দায়ের হয়ে তা কোনো কারণে খারিজ হলে পরবর্তী সময়ে একই বিষয়ে মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে আগের মামলার বিষয়বস্তু ও খারিজের বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ‘কজ অব অ্যাকশন’ বা মামলা করার নতুন কারণ তৈরি হতে হবে।

কিন্তু ওই নারী আইনজীবী পাঁচটি রিট পিটিশন দায়ের করলেও আগের মামলার রায় বা খারিজের আদেশ পরবর্তী পিটিশনগুলোতে উল্লেখ করেননি বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। আদালতের কাছে তথ্য গোপন করে এভাবে মামলা পরিচালনার বিষয়টিকে গুরুতর হিসেবে দেখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় আপিল বিভাগ ওই নারী আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। একই মামলার রিট পিটিশনার বা আবেদনকারীকে আরও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরিমানার অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, একই নারী আইনজীবী নিম্ন আদালতেও সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো পরিচালনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব মামলায় সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সকালে যখন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন, তখন ওই নারী আইনজীবী তাঁর পাশে বসে আদালতের আদেশ শুনেছিলেন। সে সময় ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, আদেশ শোনার পর ওই নারী আইনজীবী তাঁকে বারবার বলছিলেন, ‘খোকন ভাই আমাকে কী বিপদে ফেলল! আমাকে কী বিপদে ফেলল!’

তিনি বলেন, ওই নারী আইনজীবী তাঁর পরিচিত। তাঁর স্বামীও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন আইনজীবী। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয় এবং রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য বিশেষ করে তাঁদের তিনজনকে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সংশ্লিষ্ট মামলার আদেশটি সকাল ৯টা থেকে সোয়া ৯টার দিকে দেওয়া হয়। কিন্তু এ নিয়ে পরবর্তী ঘটনা ঘটে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে।

তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন যখন আদালতে এসে একজন আইনজীবীকে জরিমানা করার বিষয়টি উত্থাপন করেন, তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত সবকিছু দেখে-শুনেই একটি আদেশ দিয়েছেন এবং সেই আদেশ পরিবর্তন করা হবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ‘সিরিয়াস ফ্রড’ বা গুরুতর প্রতারণা করা হয়েছে। শুধু আদালতের সঙ্গে নয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী আদেশের সঙ্গেও প্রতারণা করা হয়েছে বলে আদালতের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছে।

এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।

রুহুল কুদ্দুস কাজলের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে বলেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রথমে প্রধান বিচারপতি বিষয়টি কিছুটা হালকাভাবে নেন। এরপর তিনি ব্যারিস্টার খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি কি সত্যিই এ কথা বোঝাতে চেয়েছেন। মাহবুব উদ্দিন খোকন অনেকটা একই বক্তব্য পুনরায় বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ওই বক্তব্য ‘অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল।’

এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, এত বড় একটি মন্তব্যের পর তিনি আর ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এ কথা বলেই তিনি এজলাস থেকে উঠে চলে যান। পরে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতিরাও এজলাস ত্যাগ করেন।

ঘটনার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে যাঁরা ওকালতি করেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের কাছে প্রধান বিচারপতি অভিভাবকের মতো।

তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে আইনজীবীদের কোনো বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। কখনো কখনো বিচারপতিরা আদালতে আইনজীবীদের বকাঝকাও করেন। কিন্তু আইনজীবীরা সাধারণত সেটিকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে আদালতের কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই দেখেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এখানকার সৌন্দর্যটা হচ্ছে, এটা কিন্তু ওই মামলা বা ওই ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এর বাইরে কিছু হয় না।’

তিনি আরও বলেন, আইনজীবী ও বিচার বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা জরুরি। রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করার সময় সবাইকে সেই দায়িত্ববোধ ধরে রাখতে হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪