রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শনিবার (১১ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক ভয়াবহ মব হামলা চালানো হয়েছে ফিলিপনগর গ্রামের পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের দরবারে। এ সময় তার দরবার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশপাশি পিটিয়ে হত্যা করা হয় পীর শামীম রেজাকে।
রোববার এ ঘটনার তদন্তে নামে পুৃলিশ। প্রাথমিক অনুন্ধানে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত থেকেই ফিলিপনগর এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ৭টি আইডি (তিনটি পেজ ও চারটি ব্যক্তিগত আইডি) থেকে ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট হতে থাকে। যেটি ছিলো কয়েকবছর আগের এবং পরিকল্পিতভাবে উস্কানোর জন্যই এটি প্রচার করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এলাকার চায়ের দোকানে বসা কয়েকজন যুবকের কাছ থেকে জানা গেছে এই ফেসবুক আইডিগুলো ছিলো বাংলায় লেখা। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘সত্যের সন্ধানে ফিলিপনগর’।
যে সাতটি আইডি থেকে ভিডিওগুলো ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর দুই–একটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। এ ছাড়া হামলা–ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ১৫ থেকে ১৮ জনকেও শনাক্ত করা গেছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা ভিডিওর লিংকগুলো শনিবার সকাল পর্যন্ত ফিলিপনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের মেসেঞ্জার ও আইডিতে শেয়ার হতে থাকে। সকাল ৯টার দিকে এই লিংকগুলোর তথ্য পুলিশ কর্মকর্তার নজরে আসে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা ফিলিপনগর এলাকার কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। ভিডিওগুলো সম্পর্কে এবং কোনো কিছু হতে যাচ্ছে কি না, এ বিষয়ে আলাপ চলতে থাকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, দরবার নিয়ে তাঁদের এখানে কিছু ঘটতে যাচ্ছে কিনা। সেই নেতা জানিয়েছিলেন, তেমন কোনো বিষয় নেই। তবে আসরের নামাজের পর ইউনিয়নের বেশ কিছু মুসল্লি নিয়ে বৈঠক আছে।
ওই নেতার কথা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশের একাধিক টিম ফিলিপনগর গ্রামে টহল দিতে থাকে। দুই থেকে তিনজন পুলিশ সদস্য বেলা ১১টার দিকে দরবারেও উপস্থিত হয়। তবে বেলা ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে গ্রামের পাকা সড়ক দিয়ে শতাধিক মানুষ দেশীয় লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে গিয়ে হামলা চালাতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও ছিলো।
উল্লেখ্য, নিহত ব্যক্তির নাম শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলীর ছেলে। তিনি ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে দরবার গড়ে তোলেন।
এদিকে সকাল থেকে নিহত পীরের ভক্ত–অনুসারীরা ছুটে আসছেন দরবার শরিফে। তাঁরা ভাঙচুর করা ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র দেখছেন। কেউ কেউ কেঁদে উঠছেন। তাঁরা বলছেন, পীর খুবই ভালো মানুষ ছিলেন। তাঁর যদি কোনো অন্যায় থাকত, তার আইনে বিচার হতো। এর বিচার হওয়া উচিত।
তথ্যসুত্র: প্রথম আলো, ইত্তেফাক, বাংলাট্রিবিউন
রিপোর্টার্স২৪/সাইফ