কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার দেবিদ্বারে গৃহকর্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিনকে (৫৫) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করার ঘটনায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার মূল অভিযুক্ত লাইলি আক্তার (৩৩) এর আগেও এক শিশুকে গলা কেটে হত্যার মামলায় সাড়ে চার বছর জেল খেটে মাত্র এক মাস আগে জামিনে বের হয়েছিলেন। আর জামিনে মুক্ত হওয়ার মাস খানেকের মাথায় আবারও একই কায়দায় গৃহকর্ত্রীকে খুনের অভিযোগ উঠলো তার বিরুদ্ধে।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভূঁইয়া হাউজের মালিক মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান, গত ১ আগস্ট ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন লাইলি আক্তার। গত শুক্রবার রাতে ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একা থাকার সুযোগে লাইলি তার সহযোগী কথিত প্রেমিক আমির হোসেন, সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে ঘরে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ফরিদাকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে মুড়িয়ে এলাকার ডোবা ও ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখে। পরিবারের অভিযোগ, হত্যার পর ঘর থেকে গৃহনির্মাণের জন্য রাখা নগদ প্রায় ৭ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে ঘাতকেরা।
শনিবার সকাল থেকে ফরিদার মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনেরা বাড়িতে এসে খোঁজ শুরু করেন। এ সময় লাইলির কথাবার্তায় অসংলগ্নতা এবং বারান্দা পানি দিয়ে ধুতে দেখে স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে বাড়ির পেছনে বস্তায় পলিথিন মোড়ানো টুকরো টুকরো মরদেহ দেখে স্থানীয়রা লাইলিকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নিহত ফরিদার মাথা ও পাসহ মরদেহের মোট ১৩টি প্যাকেট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় আমির হোসেনের পাঁচ বছরের শিশুকন্যা ফাহিমাকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল এই লাইলি ও তার কথিত প্রেমিক আমিরের বিরুদ্ধে। ওই মামলায় চার বছর সাভার ও কুমিল্লার কারাগারে থাকার পর মাত্র এক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
এ ঘটনায় নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে লাইলি আক্তার, আমির হোসেন, সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ছোট আলমপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার লাইলি আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোভে পড়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব