পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে আইনজীবী জামাতার বিরুদ্ধে শ্বশুরের জমি দখলের চেষ্টা, জমি বিক্রিতে বাধা প্রদান, চরম হয়রানি ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং শেষ বয়সে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে নিজেদের জমি বিক্রির দাবিতে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করেছেন এক ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতি, তাদের সন্তান, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে পঞ্চগড় আদালতের সামনের মহাসড়কের পাশে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত উপ-সচিব ও ভুক্তভোগী খায়রুল আলম, তার স্ত্রী মমতাজ জাহান, মেয়ে ডা. নাফিয়া ইয়াসমিন, নাঈমা ইয়াসমিন এবং স্বজন এ এস এম মোস্তফা সারওয়ার বাবু।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, পঞ্চগড় জেলা শহরের মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক উপ-সচিব খায়রুল আলমের চার মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় মেয়ে নাসিমা ইয়াসমিনকে ১৯৯৮ সালে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন আইনজীবী হাসান সারওয়ার হেনরি। ২০০৮ সালে পরিবার বিষয়টি মেনে নিলেও পরবর্তীতে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ করা হয়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জামাতা হেনরি ভুয়া ওয়ারিশ সাজিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছেন। এমনকি মামলার অজুহাতে প্রতি মাসে ভয়ভীতি দেখিয়ে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, বয়সের ভারে তারা নানা রোগে আক্রান্ত। নিজেদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তারা পঞ্চগড়ের কায়েতপাড়া এলাকায় তাদের মালিকানাধীন ৪৪ শতাংশ জমি বায়নামা ও রেজিস্ট্রির উদ্যোগ নেন। কিন্তু আইনজীবী হেনরি ভুয়া ওয়ারিশের দাবি তুলে আদালতে মামলা দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করান এবং এসিল্যান্ড অফিসে খাজনা-দাখিলা বন্ধের আবেদন জানান। ফলে জমি বিক্রি করতে না পেরে বর্তমানে চিকিৎসার খরচ চালাতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন এই বৃদ্ধ দম্পতি। বাধ্য হয়ে শেষ বয়সে বিচার ও প্রতিকার চেয়ে রাস্তায় নামতে হয়েছে তাদের।
এদিকে অভিযুক্ত আইনজীবী হাসান সারওয়ার হেনরির আপন ভাই এ এস এম মোস্তফা সারওয়ার বাবু মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে স্বজন নির্যাতনের বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘হেনরি আমার প্রয়াত মাকে মারধর ও নির্যাতন করে ৬ শতক জমিসহ বাড়ি নিজের নামে লিখে নিয়েছে। আমার বিরুদ্ধেও একাধিক হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে।’
ভুক্তভোগী খায়রুল আলম বলেন, ‘হেনরি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমার সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে। বৃদ্ধ বয়সে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে জমি বিক্রি করতে গেলেও সে ভুয়া ওয়ারিশ বানিয়ে বাধা দিচ্ছে।’ একই অভিযোগ তুলে তার দুই মেয়ে ডা. নাফিয়া ইয়াসমিন ও নাঈমা ইয়াসমিন বলেন, আইনজীবী জামাতা তাদের বাবার সম্পত্তি কুক্ষিগত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছেন।
ঘটনার বিষয়ে পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পঞ্চগড় আইনজীবী সমিতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আইনজীবী হাসান সারওয়ার হেনরি। তিনি দাবি করেন, “আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব ভিত্তিহীন ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।”
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব