স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরায় শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে গভর্নিং বডি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতাকর্মী ও হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে মারামারি হয়। এতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ড্যাবের ব্যানারে একটি দল হাসপাতালে আসে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তি মূল ফটক ভেঙে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ড্যাবের সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, হাসপাতাল ‘দখলের চেষ্টা’ হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। তারা শিক্ষা কার্যক্রম ও চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি গভর্নিং বডি নিয়ে বিরোধের আইনগত সমাধানের দাবি জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গভর্নিং বডি নিয়ে আগ থেকেই বিরোধ
শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। গত ৪ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চিঠির অনুলিপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ওই চিঠিতে বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে নতুন গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়নের কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষের দাবি, গভর্নিং বডির বৈধতা নিয়ে বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই নতুন গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেছে।
এ নিয়ে এর আগে অধ্যক্ষকে পদত্যাগে চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। ফলে কয়েক দিন ধরেই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটিতে চাপা উত্তেজনা চলছিল। বুধবারের সংঘর্ষের পর সেই উত্তেজনা প্রকাশ্যে রূপ নেয়।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে এর প্রভাব পড়তে পারে মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায়। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধের সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব