| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ছেঁড়া নোটের ঝক্কি ও ভাংতি সংকট দূর করবে ‘বাংলা কিউআর’

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ইং | ১২:২৭:২০:অপরাহ্ন  |  ৭৬৭ বার পঠিত
ছেঁড়া নোটের ঝক্কি ও ভাংতি সংকট দূর করবে ‘বাংলা কিউআর’

স্টাফ রিপোর্টার: দৈনন্দিন কেনাকাটা ও ছোটখাটো লেনদেনে ছেঁড়া-ফাটা নোটের ভোগান্তি কিংবা ভাংতি টাকার টানাটানি অতি পরিচিত দৃশ্য। তাছাড়া পুরানো নোটে থাকা রোগজীবাণু থেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও কম নয়। এসব সমস্যা সমাধান করে দেশে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন লেনদেনকে সর্বজনীন করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগে সার্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যবস্থার প্রবর্তন প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যক্তি পর্যায় পর্যন্ত ডিজিটাল পেমেন্টের এক নতুন পথ উন্মোচন করছে।

স্বাস্হ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন হাতবদল হওয়া ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোটে প্রচুর জীবাণু থাকে, যা থুথু দিয়ে টাকা গোনার অভ্যাসের কারণে সহজে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিক মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা ও অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেকে নগদ টাকার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তবে নতুন এই ‘বাংলা কিউআর’ চালুর মাধ্যমে রিকশাচালক, হকার, ডাব বিক্রেতা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীরা কোনো বাড়তি যন্ত্রাংশ ছাড়াই কেবল একটি কিউআর কোড ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন।

ক্ষুদ্র ও ভাসমান উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শর্তও সহজ করেছে। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ‘ব্যক্তিগত রিটেইল হিসাব’ খোলার সুযোগ রাখা হয়েছে, যার লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই মনে করছেন, এই ব্যবস্থা জনপ্রিয় হলে ভাংতি না থাকার সমস্যা যেমন মিটবে, তেমনি প্রতিদিনের হিসাব-নিকাশ রাখাও সহজ হবে।

ডিজিটাল অবকাঠামো প্রসার ও সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, কোনো বাড়তি মেশিন না থাকায় কেবল প্রিন্টেড কিউআর কোড দিয়েই শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি লেনদেনের সুবিধার্থে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

অর্থনীতিবিদরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিআইআইএসএস-এর গবেষক ড. মাহফুজ কবীরের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো জোরালো করার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও সার্বিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা গেলে শহরাঞ্চলের মতো গ্রামাঞ্চলেও বাংলা কিউআরের ব্যবহার ব্যাপক সাড়া ফেলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, হিসাব খোলার পদ্ধতি আরও সহজ করা এবং ভবিষ্যতে ফিচার বা বাটন ফোনের মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ রাখা গেলে ‘বাংলা কিউআর’ দেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪