স্পোর্টস ডেস্ক: ভুটান সফর শেষে দোহাগামী ফ্লাইট ধরতে ট্রানজিট হিসেবে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সময় ছিল মাত্র আধঘণ্টা। তবে এই অল্প সময়েই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্তরিক ও অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় মেতে ওঠেন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।
মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে ইনফান্তিনোর দুবার বাংলাদেশে আসাকে দেশের ফুটবলের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম।
তার মতে, ফিফা সভাপতির এই সফর বাংলাদেশের ফুটবলের গুরুত্ব ও সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ইনফান্তিনো। সেখানে তাকে স্বাগত জানান বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম, সাব্বির আহমেদ আরেফসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এই সফরের তাৎপর্য তুলে ধরে ফাহাদ করিম বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে, তিনি ২১১টি দেশের সভাপতি। চার বছরে সব দেশে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাকে পাওয়ার জন্য দেশগুলো রীতিমতো প্রতিযোগিতা করে। সেখানে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার তার সান্নিধ্য পাওয়া, বাংলাদেশের মাটিতে তার পদার্পণ নিঃসন্দেহে অনেক বড় ব্যাপার।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফিফার সভাপতি যখন যে দেশে থাকেন, ফুটবল বিশ্বের রাজধানী তখন সেই দেশটিই হয়ে যায়। সেই হিসাবে এই অল্প সময়ের জন্য হলেও ফুটবল বিশ্বের রাজধানী ছিল ঢাকা, বাংলাদেশ। এটি আমাদের দেশের ফুটবলের জন্য এবং পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য অনেক গর্বের বিষয়।’
বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে ইনফান্তিনো ও তার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে বাফুফে কর্মকর্তাদের সময় কাটে হাসি-আনন্দে। বাফুফের কর্মকর্তা আরিফ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালে রসিকতা করে ফিফা সভাপতি বলেন, মাত্র এক-দুদিন আগেই তো তারা তাকে ফুল দিয়েছেন।
জবাবে ফাহাদ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে আতিথেয়তার দেশ। আপনি যতবার আসবেন, ততবারই আমরা আপনাকে ফুল দিয়ে এভাবেই বরণ করে নেব।’
এদিন ইনফান্তিনোর হাতে তুলে দেওয়া হয় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হোম জার্সি। তাতে ছিল তার পছন্দের ৯ নম্বর। জার্সিটি পেয়ে অবাক হন ফিফা সভাপতি। ফাহাদ করিম জানান, গুগলে তার ছবি খুঁজে ইনফান্তিনোর পছন্দের জার্সি নম্বরটি বের করেছিলেন তারা।
ইনফান্তিনোর পাশাপাশি তার সফরসঙ্গী তিন সদস্যকেও বাংলাদেশের নতুন জার্সি উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর রেফারি জসিম ফিফা সভাপতিকে একটি ক্যাপ ও টি-শার্ট উপহার দেন। সেগুলো পরে আনন্দের সঙ্গে ছবিও তোলেন ইনফান্তিনো।
আড্ডায় উঠে আসে ইনফান্তিনোর ভুটান সফরের প্রসঙ্গও। সেখানে দেশটির ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেছিলেন ফিফা সভাপতি। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনে ফাহাদ করিম তাকে পরেরবার বাংলাদেশে এলে পাঞ্জাবি পরানোর প্রস্তাব দেন।
ফাহাদ করিম বলেন, ‘ভুটানে রাজার আমন্ত্রণে তিনি গিয়েছিলেন। সেখানকার দারুণ অভিজ্ঞতার কথা তিনি আমাদের জানিয়েছেন। তিনি ভুটানের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেছিলেন। আমি তাকে বললাম, ওই পোশাকে আপনাকে দারুণ লাগছিল। এরপর তাকে আমি কথা দিয়েছি, আগামীবার আপনি যখন আসবেন, তখন আপনাকে আমরা পাঞ্জাবি পরিয়ে ছবি তুলব।’
আনন্দঘন আড্ডার পাশাপাশি দেশের ফুটবলের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। ঘরোয়া লিগ ও ফুটবলের কাঠামোগত উন্নয়নে বাফুফের বর্তমান কার্যক্রমের কথা শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের বিকাশে আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্লাবভিত্তিক টুর্নামেন্ট বা কর্মসূচি আয়োজনের পরামর্শ দেন তিনি।
ফাহাদ করিম বলেন, ‘সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, তিনি আমাদের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ক্লাবভিত্তিক কোনো টুর্নামেন্ট বা প্রোগ্রাম আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই অঞ্চলের ক্লাবগুলোর মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, সেটি চমৎকার এবং স্বাস্থ্যকর।’
ফাহাদ করিমের বিশ্বাস, ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর এই সফর দেশের ফুটবলের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্ব এবং বর্তমান সরকারের আন্তরিকতায় আগামী দিনে ফিফার কাছ থেকে আরও সুযোগ-সুবিধা পাওয়া এবং দেশের ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ ছাড়া ফিফা ও ইনফান্তিনোর নিজস্ব যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় বাংলাদেশকে নিয়ে রিলস ও সংবাদ প্রকাশের বিষয়টিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ভূমিকা রাখছে বলে উল্লেখ করেন বাফুফের এই সহসভাপতি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব