দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে একাধিক ‘সহিংস দাঙ্গায়’ বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির পর স্থানীয় সময় রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ইরানে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। নিহত ইরানিদের স্মরণে প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভা শোক পালন করছে বলে জানিয়েছে প্রেসিডেন্টের দফতর। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সরকারের বিরু
গাজায় দুই বছর ধরে ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মধ্যপ্রাচ্য সফরে এ অঞ্চলের আরেকটি সংকটের দিকে নজর দিয়েছেন। আর তা হলো, তেহরান–ওয়াশিংটন সম্পর্কের উত্তেজনা বা টানাপোড়েন।
দুই দিনের সফরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ও মার্কিন আগ্রাসনের পর তেহরান ও ইসলামাবাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে ইরানি প্রেসিডেন্টের এই সফর।
যুক্তরাষ্ট্রকে গত মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষে ইরানের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। এর মাধ্যমে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে নতুন শর্ত আরোপ করল।
যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলার পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল না করলে ইরান কোনো আলোচনা শুরু করবে না। বিবিসিকে এমনটাই জানালেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানছি। মাজিদ তাখত-রাভানছি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরানকে জানিয়েছে, তারা আলোচনায় ফিরতে চায়। কিন্তু আলোচনা চলার মধ্যেই আর হামলা হবে কি না, সেই ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে’ ওয়াশিংটন এখনো স্পষ্ট কোনো বার্তা দেয়নি।
ইসরায়েল, আমেরিকা কিংবা অন্য শত্রু রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন পাস করেছে ইরানের পার্লামেন্ট। একইসঙ্গে, স্টারলিংকের মতো অননুমোদিত ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারের অপরাধীকেও শাস্তিযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (৩০ জুন) দেশটির সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
সিএনএন : জাতিসংঘের পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএর প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে পুরোপুরি ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, তেহরান চাইলে কয়েক মাসের মধ্যেই আবার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অসম্মানজনক বক্তব্য দিয়ে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক আগ্রাসনের সূচনাকারী হিসেবে ইসরায়েলি সরকার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে ক্ষতিপূরণ ও ক্ষতিপূরণ।
ইহুদিবাদী সরকারের যুদ্ধবিরতি পালন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি যেকোনো নতুন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। রবিবার টেলিফোনে আলাপকালে মেজর জেনারেল মুসাভি এবং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল সৌদ দ্বিপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলেছেন। আলোচনায় ইসরায়েল এবং আমেরিকা ইরানের উপর যে ১২ দিনের যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল সেটাও ছিল।
ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থাকে সতর্ক করে বলেছেন, যেকোনো নতুন আগ্রাসন হলে ইরান আরও কঠোর হবে তখন ইসরায়েলের পতনকে ত্বরান্বিত করবে। শনিবার তেহরানে যুদ্ধে শহীদ ৬০ জনেরও বেশি ইরানির জানাজায় এ মন্তব্য করেন জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েনি। তিনি বলেন, ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে তাদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।