ইরানের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে। এখনো তারা নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারই শুরু করেনি। পুরানো অস্ত্রের হামলাতেই বিধ্বস্ত হয়েছে ইসরাইলের গুরুত্বপুর্ণ সব স্থাপনা। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানকে বারবার সমঝোতার প্রস্তাব দিচ্ছে আমেরিকা। তবে এসব প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরায়েল হামলা চালিয়ে গেলে তিনি কারও সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নন।
ইসরায়েলের বিরসেবা শহরে মাইক্রোসফটের কার্যালয়ের একদম কাছে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। আবাসিক ভবনগুলোতে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাস্থলে গেছেন অগ্নিনির্বাপককর্মী ও প্যারামেডিকসরা।
ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিলে সমগ্র অঞ্চলের জন্য নরক নেমে আসবে। বিবিসিকে এমনটাই বলেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদে। সাঈদ খতিবজাদে বলেন, ‘এটা আমেরিকার যুদ্ধ নয়।’
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৪তম দফার হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় এক গুচ্ছ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের (১৯ জুন) হামলায় যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের বলে দাবি করেছে ইরানের গণমাধ্যম।
ফোনালাপে পুতিনকে চিনপিং বলেন, ‘সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলো—বিশেষ করে ইসরায়েল—যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতিতে যাক; যাতে পরিস্থিতি আরও না বেড়ে যায় এবং যুদ্ধ অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যায়।’
বিবিসির খবরে বলা হয়, এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানান খামেনি। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শত্রু যদি বুঝতে পারে আপনি তাদের ভয় পাচ্ছেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়বে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা এখন পর্যন্ত যেভাবে আচরণ করেছেন, তা অব্যাহত রাখুন; সেই আচরণই আরও দৃঢ়তার সঙ্গে চালিয়ে যান।’
ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন একটি বিবৃতি দিয়েছেন যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে তেহরান এই সংঘাতে ‘‘একা নয়’’।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (১৮ জুন) রাতে আইআরজিসির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রয়্যাল নিউজ।
এবার ইসরায়েলের দিকে নতুন ধরনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ছোড়ার পর এগুলো যাওয়ার সময় ধোঁয়ার কুণ্ডলির এক ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথামতো ইরান কারও কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে সাহায্য করে, তাহলে তারা ‘অপূরণীয় ক্ষতির মুখে’ পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান নিয়ে আমি কী করতে যাচ্ছি তা কেউ জানে না। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি এটা করতে পারি, আবার আমি না-ও করতে পারি।’
খামেনি বলেন, ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার পারমাণবিক কর্মসূচির নিয়ে আলোচনা করছিল, এমন সময়ে ইসরায়েল প্রথম বিমান হামলা করে। অথচ তখন তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা হুমকি ছিল না। এ সময় ইরান শান্তির পথেই ছিল।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে মারিয়া জাখারোভা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোয় ইসরায়েলের প্রতিদিনকার হামলার কারণে বিশ্ব এখন ‘বিপর্যয় থেকে মাত্র কয়েক মিলিমিটার দূরে রয়েছে।’
ইসরায়েল-ইরানের মধ্যে গত শুক্রবার থেকে সংঘাত চলছে। পাল্টাপাল্টি হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের দিকে ৪০০ টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এ ছাড়া ইসরায়েলে হামলার জন্য তেহরান কয়েক শ ড্রোন পাঠিয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর আজ বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছে। খবর সিএনএনের।