| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শাপলার স্বর্গরাজ্য উজিরপুরের সাতলা বিল

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ৩১, ২০২৫ ইং | ১১:১৯:০০:পূর্বাহ্ন  |  587652 বার পঠিত
শাপলার স্বর্গরাজ্য উজিরপুরের সাতলা বিল

নাজমুল হক মুন্না, বরিশাল: লাল, নীল, সাদা রংয়ের শাপলার অনাবিল সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়েছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা বিলে। সূর্যের আভাকেও যেন হার মানিয়েছে বিলের পানিতে ভেসে থাকা লতাপাতা গুল্মে ভরা শত সহস্র লাল, নীল ও সাদা শাপলা। এ যেন প্রকৃতির বুকে এক নকশিকাঁথার অপরূপ সৌন্দর্য।

অপরূপ শোভার বিলটি এখন পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়তে শুরু করেছে। দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভ্রমণপিপাসু আসছেন সাতলা বিলের সৌন্দর্যে অবগাহন করতে।

অপরূপ শোভার সাতলা বিলে বর্ষার শুরু থেকেই ফুটতে শুরু করেছিল শাপলা। বছরের প্রায় ছয়  মাস ধরে শত শত একর জমির পানির মধ্যে জন্ম নেওয়া নানা রঙের অজস্র শাপলা এক নজর দেখার জন্য সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় হাজারো মানুষ ভিড় জমাচ্ছে সাতলা বিলে। পর্যটকদের আনাগোনায় দিন দিন মুখর হচ্ছে শাপলার রাজ্য সাতলা এলাকা।

বিলের শুরু সৌন্দর্যই নয়, শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় স্বল্প আয়ের মানুষ। তারা সকালের সূর্যের আলো ফোটার আগেই ছোট ছোট নৌকা নিয়ে নেমে পড়েন শাপলা তোলার জন্য। প্রায় ১০০ বছর ধরে সাতলা বিলে জন্ম নিচ্ছে শাপলা। ওই এলাকার প্রায় ৪০ ভাগ মানুষ বিলের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাতলা বিল এলাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পর্যটকদের সুবিধার্থে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। এ ব্যাপারে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সুজা জানান  সাতলার শাপলা বিলের সৌন্দর্র্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের  একটি ছোট্ট পরিসরে আবাসন টয়লেট ও একটি ঘাটলা  নির্মান করা হয়েছে, এছাড়াও আরো যুগ উপযোগী পরিকল্পনা রয়েছে। 

তিনি বলেন, সাতলা দিনে দিনে পর্যটক নগরীতে পরিণত হচ্ছে। সাতলা বিলকে পরিপূর্ণ পর্যটক স্পট হিসেবে রূপ দিতে নানামুখী কার্যক্রম শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সাতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক রমেশ মন্ডল  জানিয়েছেন, এক সময় শাপলার তেমন চাহিদা না থাকায় পানিতে জন্মে পানিতেই মরে পচতে হতো। দিনে দিনে শাপলার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তা বাজারে বিক্রি করে জীবিকার পথ বেছে নিয়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ। এখন প্রায়  বছরের ছয় মাস ধরেই শাপলা পাওয়া যায়। বরিশালের মানুষ খাদ্যের তালিকায় রাখছে শাপলা। এছাড়া সাতলার বুকজুড়ে শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে সব শ্রেণির মানুষ ভিড় করছে।

শাপলা তোলার কাজে জড়িত দিনমজুর ধীরেন মন্ডল  বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করে চলছে তার সংসার। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিনোদন ও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে নানা সামগ্রী বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে  বর্ষা, শরৎ ও হেমন্তকালে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সাতলার শাপলা বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্র্য উপভোগ করছেন।

ঢাকার মিরপুর  থেকে আসা পর্যটক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঢাকা থেকে এত দূরে ছুটে এসেছেন। অপর একজন ভ্রমণপিপাসু ফরিদপুর সদরপুর থেকে আসা  রাব্বি  বলেনম শাপলা বিলের অপরূপ সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ।

গাজীপুরের টঙ্গী  থেকে আসা সীমা জানান, বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নানা রঙের শাপলা  দেখে আমি মুগ্ধ তবে  এখানে পর্যাপ্ত বাথরুমের ব্যবস্থা নেই নেই ভালো মানের খাবার হোটেল, এ সমস্যাগুলো সমাধান হওয়া দরকার, স্থানীয়দের দাবি এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শাপলা বিল, এটিকে পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে রূপন্থিত করার দাবি জানান স্থানীয়রা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪