| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শাপলায় অনড় দু-পক্ষই; চাইছে এনসিপি, ইসির না

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৭, ২০২৫ ইং | ১৪:১৪:২১:অপরাহ্ন  |  ১১১২৫০৯ বার পঠিত
শাপলায় অনড় দু-পক্ষই; চাইছে এনসিপি, ইসির না
ছবির ক্যাপশন: প্রতীকী ছবি

ধ্রুব চৌধুরী : শাপলা প্রতীক নিয়ে দু-পক্ষই, অর্থাৎ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) অনড় অবস্থানে রয়েছে। দলীয় নিবন্ধন চাওয়ার শুরু থেকেই শাপলাকে নিজেদের দলীয় প্রতীক হিসেবে চাইছে এনসিপি। অপরদিকে ইসি বলছে, আইনগতভাবে তফসিলে না থাকার কারণে শাপলা প্রতীক দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শাপলার বদলে গেজেট ৫০টি প্রতীকের থেকে যে কোনো একটিকে বাছাই করতে এনসিপিকে চিঠিও দিয়েছে কমিশন। তালিকা থেকে প্রতীক বাছাই করতে এনসিপিকে গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ও বেধে দিয়েছিল তারা। কিন্তু সে সময়ের মধ্যেও বিকল্প প্রতীক প্রস্তাব করেনি দলটি। উল্টো সাংবিধানিক এই সংস্থাটির প্রতীক বরাদ্দের নীতিমালা ও আইনি ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা।

এনসিপি বলছে, তাদের পছন্দের শাপলা প্রতীক না দেওয়া হলে নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত ৫০টি প্রতীকের অন্য কোনোটিই নেবে না তারা। শুধু তাই নয়, দলটির কোনো কোনো নেতা বলেছেন যে তারা শাপলা ছাড়া অন্য কোনো মার্কা দিলে নির্বাচনে অংশ নেবে না।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘ইসি যদি শাপলা প্রতীক না দিয়ে স্বেচ্ছাচারী আচরণ করে তাহলে এই কমিশনের যে কোনো কার্যক্রমে আমাদের অনাস্থা থাকবে।’

তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, তারা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রতীক তালিকার যে নতুন গেজেট করেছে সেখানে শাপলা না থাকায় এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দেওয়ার সুযোগ নাই।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য ১১৫টি প্রতীক বরাদ্দ রেখে গেজেটে প্রকাশ করে। সেখানে শাপলা প্রতীক রাখা হয়নি। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, এনসিপি যদি শেষ পর্যন্ত শাপলা বাদে অন্য কোনো প্রতীক না নিতে চায় সেটি নতুন করে সংকটও তৈরি করতে পারে। এমনকি প্রতীক নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না হলে এনসিপির নিবন্ধন পাওয়ার বিষয়টি আটকে থাকতে পারে।

এদিকে এনসিপির শাপলা প্রতীক দাবির পর নানা মহলে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা চলমান। অনেকেই বলছেন শাপলা দেশের জাতীয় প্রতীক হওয়ায় তা দখলে নিতে চাইছে এনসিপি। নিজেদের দলকে দেশের জাতীয়তার অংশীদার হিসেবে দেখাতেই দলটির নেতাকর্মীরা শাপলা চাচ্ছেন। 

এনসিপিকে শাপলা দেয়ার পক্ষে যেমন এক শ্রেণী কথা বলছেন, তেমনি দেশের জাতীয় প্রতীককে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতীক হিসেবে না দিতে ইসিকে আহবান জানাচ্ছেন অনেকেই। 

এমনকি যৌন নিপীড়ণের শিকার হয়ে অভিযোগ তোলায় সদ্য বহিস্কার হওয়া এনসিপি নেত্রী নীলা ইসরাফিলও সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন ‘শাপলা প্রতীক কেন তাদের দেওয়া যাবে না’।

তিনি আরও বলেছেন, ‘শাপলা’ শুধু একটা ফুল না, এটা বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক। আইনগতভাবেই সেটি রাজনৈতিক দলকে দেওয়া যায় না। কারণ, এতে জাতীয় প্রতীকের অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে। এই আইনি সীমারেখা মানেই হচ্ছে  ‘শাপলা’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ।’

‘শাপলা’ নিয়ে এনসিপি ও ইসির এমন টানা-হেঁচড়ায় প্রশ্ন উঠতেই পারে ‘আইন কি বলছে?’ সেক্ষেত্রে সংবিধানে চোখ রাখলে দেখা যায় দ্বিতীয় তফসিলে স্পষ্টভাবে বর্ণনা আছে, ‘জাতীয় প্রতীকে শাপলা ফুলকে কেন্দ্র করে ধান, পাট ও জ্যোতির্ময় সূর্য ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ ‘শাপলা’ জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রবিন্দু।’

ঊষবপঃরড়হ ঝুসনড়ষং (অষষড়পধঃরড়হ ধহফ জবমরংঃৎধঃরড়হ) ঙৎফবৎ, ১৯৭২ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব আছে প্রতীকের তালিকা নির্ধারণ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে। সেই আইনেই বলা হয়েছে, ‘কোনো প্রতীক যদি জাতীয় প্রতীক, ধর্মীয় চিহ্ন, বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেটি রাজনৈতিক দলকে দেওয়া যাবে না। কারণ, এতে জাতীয় প্রতীকের অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে ‘

এই আইনি সীমারেখা মানেই হচ্ছে ‘শাপলা’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এটি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ।

শুরুতে অবশ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য এনসিপি যখন আবেদন করেছিল তখন প্রতীক হিসেবে শাপলার পাশাপাশি কলম ও মোবাইল চেয়েছিল। কিন্তু এর কয়েকদিন পরই ইসিতে আরেকটি চিঠি পাঠিয়ে কলও ও মোবাইলের পরিবর্তে শাপলার পাশাপাশি লাল শাপলা অথবা সাদা শাপলা থেকে যেকোনো একটি প্রতীক চায় এনসিপি।

বেশ কয়েক মাস ধরেই এনসিপির অনেকে শাপলা প্রতীকের দাবিতে বিভিন্ন প্রচার প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে একাধিকবার দলীয় প্রতীক হিসেবে শাপলা পেতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকও করেছে দলটি। এমনকি শাপলা না পেয়ে ইসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তার বহিষ্কারের দাবিও তুলেছিলেন এনসিপির নেতারা।

নানান বিতর্কের পরও শাপলা পাওয়ার জন্য মরিয়া অবস্থানে রয়েছে এনসিপি। ইসি তাদেরকে শাপলা প্রতীক না দেয়ার কারণ হিসেবে আইনগত জটিলতার কথা বললেও দলটি দাবি করছে ‘শাপলা দিতে কোনো আইনগত জটিলতা নেই।’

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও আইন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মুসা বলেছেন, ‘যেহেতু শাপলা প্রতীক পেতে আমাদের কোনো আইনগত জটিলতা নেই, সে কারণে আমরা ইসিকে আমাদের আগের অবস্থানই পুর্নব্যক্ত করেছি। এনসিপি শাপলার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না।’

এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘তারা কোনো আইনি ব্যাখ্যা ছাড়া একটা সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দেবে এটা ভাবার কোনো সুযোগ নাই। এটা কোনোভাবে হবে না।’

এনসিপির আরেক নেতা নারিউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘সংকটের সুরাহা না হলে ইসির সবাইকে পদত্যাগ করাতে আমরা বাধ্য হবো। এই ইসির অধীনে ভোটে না যাওয়ার কথাও জানান তিনি। এই নেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিকাণ্ডে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন ঝুঁকি নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না।’

রোববার (২৬ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির জেলা-উপজেলা সমন্বয় সভায় যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘শাপলা প্রতীকের জন্য যদি এনসিপিকে রাজপথের কর্মসূচিতে যেতে হয়, তাহলে এনসিপি একই সঙ্গে এই স্বেচ্ছাচারী নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠনের আন্দোলনেও যাবে। নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন নিজের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ এখনো পর্যন্ত কথা ও কাজের মাধ্যমে দিতে পারছে না।’

তার বক্তব্যের একদিন পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘বিধিমালায় শাপলা প্রতীক না থাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) শাপলা প্রতীক দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশন স্ববিবেচনায় এনসিপিকে অন্য প্রতীক দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘কমিশন এরই মধ্যে তাদের অবস্থান জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিকল্প প্রস্তাব কমিশনের কাছে আসেনি। এখনও কমিশন আগের অবস্থাই আছে।’

নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবিধানিক আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় না থাকায় এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দেওয়া সম্ভব না।’

কিন্তু নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘যদি গেজেট সংশোধন করা হয় তাহলেই কেবল শাপলা প্রতীক পাওয়ার একটি সুযোগ থাকবে এনসিপির। এই নিয়ে আমাদের মধ্যে যদি নতুন করে কোনো আলোচনা হয় তখন বিবেচনা করা যাবে। তবে এখনো পর্যন্ত শাপলা নতুন করে গেজেটে যুক্ত করার ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়নি।’

যদি নির্বাচন কমিশন নতুন করে গেজেটে ‘শাপলা’ প্রতীক যুক্ত করে তাহলে এনসিপি সহজেই প্রতীকটি পেতে পারে-- এমন ধারণাও ভুল। কারণ এর আগেই ‘শাপলা’ প্রতীক চেয়েছিলো বেশকিছু রাজনৈতিক দল। রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘শাপলা’ চেয়েছিলো। কিন্তু কমিশন তাদেরকে ‘কেটলি’ প্রতীক দিয়েছে। এমন আরও বেশ কয়েকটি দলই শাপলা চেয়ে পেয়েছে অন্যান্য প্রতীক। নতুন করে ‘শাপলা’ নিয়ে এনসিপির একরোখামিতে আগের দলগুলোও আবার প্রতীক হিসেবে ‘শাপলা’ দাবি করছে। এতে শাপলা নিয়ে জাতীয় সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংকটও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪