স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় যুবদলকর্মী মো. সাজ্জাদ (২২) হত্যা মামলায় একটি বিদেশি পিস্তলসহ আরও দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত প্রধান আসামি ইউসুফ প্রকাশ হিরন (২৫) ও আরেক এজাহারনামীয় আসামি রিয়াজ করিম (৩৩)।
বৃহস্পতিবার সিএমপির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বুধবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে চান্দগাঁও থানাধীন মীর বাড়ি এলাকা থেকে ইউসুফ প্রকাশ হিরনকে গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ।
পরে তার স্বীকারোক্তি ও তথ্যমতে ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে বাকলিয়া থানাধীন সুরভী আবাসিক এলাকার খালপাড়ে অবস্থিত ‘এসবিএন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি নির্মাণসামগ্রীর অফিস থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্পেনের তৈরি একটি পিস্তল, একটি গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।
পৃথক আরেকটি অভিযানে মৃত আনু মিয়ার পুত্র, এজাহারনামীয় ১০ নম্বর আসামি রিয়াজ করিম (৩৩) কে পটিয়া থানাধীন জঙ্গলখাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিসি আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বুধবার (২৯ অক্টোবর) রাতভর অভিযানে এজাহারনামীয় ৬ জনসহ মোট ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) ও বাকলিয়া থানা পুলিশ। এদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ এবং বাকি চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সবুজ ইসলাম মিরাজ (২৪), সাইদুল ইসলাম (২০), এমরান হোসেন সাগর (৩০), জিহান (২৩), আমজিদুল ইসলাম সাজু (৪৭), মোহাম্মদ আরাফাত (২২), মো. ওসমান (২৮) এবং দিদারুল আলম চৌধুরী রাসেল (৪২)। এ নিয়ে সাজ্জাদ হত্যা মামলায় মোট ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ‘নিহত সাজ্জাদের বাবা মো. আলম বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন। মামলার পর থেকেই থানা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের গ্রেপ্তার করা এবং হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাকলিয়া থানার এক্সেস রোড সংলগ্ন মদিনা আবাসিক এলাকার সামনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে একদল সশস্ত্র যুবক গুলি চালালে স্থানীয় যুবদল কর্মী মো. সাজ্জাদ (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুলিতে আহত হন আরও অন্তত ১৪ জন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আলম (৫৭) বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন