রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা যেন প্রতিদিনই নতুন রূপ নিচ্ছে। ডিসেম্বরের শুরু থেকেই উত্তরবঙ্গজুড়ে যে ঠান্ডা হাওয়া বইতে শুরু করেছিল, তার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে দেশের শীতলতম স্থান তেঁতুলিয়া। টানা চার দিন ধরে এখানকার তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই আটকে আছে। দিনের শুরুতেই হিমেল বাতাস আর শিরশিরে ঠান্ডায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে ভোরে কাজ শুরু করা দিনমজুর, ভ্যানচালক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কনকনে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে আসা সত্ত্বেও রোজগারের তাগিদে বের হতে হচ্ছে মাঠে-ঘাটে, রাস্তায়-ঘাটে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। যদিও ঘন কুয়াশা ছিল না, তবু ভোরে হালকা কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা কিছুটা কমে যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্য উঁকি দিলেও তাতে ঠান্ডার তীব্রতা কমেনি খুব একটা।
এর আগের দিন সোমবার সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন। গতকাল দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি, তার আগের দিন ছিল ২৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীত বাড়ায় নিত্যদিনের কষ্টও বেড়েছে বহু গুণ। কোথাও চা-স্টলের পাশে, আবার কোথাও রাস্তার ধারে খড়কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরম রাখার চেষ্টা করছে মানুষ। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে ঠান্ডা ও কুয়াশার সঙ্গে লড়াই করেই দিন পার করতে হচ্ছে।
হাড়িভাসা এলাকার দিনমজুর রমজান আলী বলেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলে হাত-পা বরফের মতো হয়ে আসে। এমন ঠান্ডায় কাজে মনই বসে না। ভ্যানচালক জাহিদুল হক জানান, সকালে কুয়াশার মধ্যে রিকশা চালাইতে খুব সমস্যা হয়। ভাড়া পাই কম, শীতে হাত-গা জমে আসে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত চার দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির আশপাশে থাকায় শীতের প্রবাহ আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই এমন শৈত্য প্রবাহ দেখা দেওয়ায় সামনে আরও কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম