| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভাঙ্গায় ঈদ পরবর্তী দাঙ্গা ফ্যাসাদে অশান্ত হয়ে ওঠেছে জনপদ

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ১১, ২০২৫ ইং | ০৬:০১:৪৬:পূর্বাহ্ন  |  799850 বার পঠিত
ভাঙ্গায় ঈদ পরবর্তী  দাঙ্গা ফ্যাসাদে অশান্ত হয়ে ওঠেছে জনপদ
ছবির ক্যাপশন: ভাঙ্গায় ঈদ পরবর্তী দাঙ্গা ফ্যাসাদে অশান্ত হয়ে ওঠেছে জনপদ

মামুনুর রশীদ, ভাঙ্গা প্রতিনিধি :

পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা পৌর এলাকা থেকে শুরু করে ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ জনগণের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনার জেরধরে দাঙ্গা ফ্যাসাদের প্রবণতা আশঙ্কা জনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় অশান্ত হয়ে ওঠেছে জনপদ। বিভিন্ন সংঘটিত সংঘর্ষে অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত ও ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

তুচ্ছ ঘটনার জেরধরে মৌখিক বাক বিতর্ক থেকে এক পক্ষ অন্য পক্ষকে ঘায়েল করতে অনায়াসে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দাঙ্গা হাঙামা সৃষ্টতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্তির দিকে ঠেলে দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন জনগণ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গা পৌরসভার থানাপাড়া সদরদী ও কলেজ পাড়ার চন্ডীদাসদী গ্রামের মধ্যে  বিবাহিত ও অবিবাহিত ফুটবল প্রতিযোগিতার সূত্রতায়  দুই যুবকের কথাকাটাকাটি হয় দুদিন আগে। পুর্ব ঘটনার জেরধরে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিবদমান দুটি পক্ষের সঙ্গে  ঘন্টাব্যাপী ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এসময় বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে দোকান মালিক ও পথচারীরা।  ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

থানা সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট সংঘটিত ঘটনায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হলেও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুনঃসংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

অপর ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়ন বাজারের দক্ষিণ প্রান্তে  ভাঙ্গা ও শিবচর উপজেলার মোহনায়। টাকা নিয়ে কেরামে জুয়া খেলা কেন্দ্র করে। স্থানীয়রা জানান, কালামৃধা আলী আকবরের মোড়ে কেরাম খেলা নিয়ে চান পট্টি এলাকায় সকাল ১০টার দিকে চেয়ারম্যান পক্ষের সাথে হাওলাদার পক্ষের কথা কাটাকাটির জেরধরে দুপক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর ইউনিয়নের চান পট্টি, নিলোখি ও ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়ন এই তিন গ্রামের জনগণ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে আলী আকবরের মোড়ের কালামৃধা ইউনিয়নের দুটো দোকান ঘর ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত ইমারত মোড়লে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনলেও ভাঙ্গা ও শিবচর উপজেলার সীমান্ত বর্তী বসতীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে ভাঙ্গা আলগী ইউনিয়নের নাওরা গ্রামের রিকাত শেখের সাত বছরের শিশু কন্যা তাহমিমা একই ইউনিয়নের অপর পট্টি গ্রামের কাশেম মুন্সীর ছেলে রবিউল মুন্সীর মোটরসাইকেল চাপায় বিকেলে গুরুতর আহত হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে শিশু তাহমিনা নিহতের ঘটনায় উত্তেজনার সৃষ্টিতপ মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে নাওরা গ্রামের লোকজন রবিউল মুন্সীর পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালিয়ে বাবু মুন্সী, মজিবর মুন্সী, শহীদ মুন্সী, ফোরাত মুন্সী, মতিয়ার মুন্সী, হোচেন মুন্সী ও আলমগীর মাতুব্বরের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম ও ইউপি সদস্য মুজিবুর রহমানের গ্রুপের মধ্যে সংঘাতের সৃষ্ট হয়েছে বলে গ্রামবাসী জানায়।

ঈদের পরের দিন রোববার রাতের শিশু ও কিশোররা হামিরদী ইউনিয়নের গুপিনাথপুর গ্রামে সুন্নতের খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাড়ির সামনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ডেক্স সেটে উচ্চ শব্দে গান বাজিয়ে আনন্দ উৎসব ও  মেহমানদের রাতের খাবারের জন্য খিচুড়ি মাংসের রান্নার করছিল আয়োজক পরিবার। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্সে গান চালোনোর ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন লিটন মাতুব্বরের লোকজন বাঁধা দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সুন্নতে খতনা বাড়ির লোকজন।

কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাতের আঁধারে শক্তির মহড়ায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। গ্রামের মসজিদের মাইকে কে বা কারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাঠে নামার আহবান করলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। উভয় পক্ষের লোকজন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চালায় দীর্ঘ সময়। সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানের প্যানডেল ভাঙচুর করার পাশাপাশি ৩০টি রান্না করার ডেকচি, জেনারেটর ভাংচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। ডেকেরেটর মালিকের দাবী প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজের মধ্যে দিয়ে সোমবার  সুন্নতের খতনা অনুষ্ঠান করেন কাশিমপুর কারাগারের কারারক্ষী ইসমাইল মুন্সী। এঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন লিটনসহসহ উভয় পক্ষের ১৫ জন গুরুতর আহত হন।

ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ঈদ পরবর্তী সময়ে তুচ্ছ ঘটনার জেরধরে পৌর এলাকা ও ইউনিয়ন এলাকায় গ্রামের জনগণের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকল ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।এজন্য জনগণকেও সচেতনতা আরও সচেতন হয়ে ওঠতে হবে। তুচ্ছ ঘটনার সৃষ্ট হলেই সংঘর্ষ নয় নিজেদের মধ্যে সমঝোতা শান্তি উত্তম।




.

রিপোর্টার্স২৪/এস

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪