| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দৌলতপুরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়েও মিলছেনা তেল

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৭, ২০২৬ ইং | ১১:৪৩:৩৫:পূর্বাহ্ন  |  ৭৮১১৩৪ বার পঠিত
দৌলতপুরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়েও মিলছেনা তেল

দৌলতপুর প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জ্বালানি তেলের জন্য পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনগুলিতে দিনভর ছিল দীর্ঘ লাইন। ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে শুন্যহাতে ফিরেছে অনেকে। আবার অনেকে ৫০০টাকার তেল পেয়েও স্বস্থি নিয়ে ফিরেছে বাড়িতে। গণমাধ্যম কর্মীরা সম্মানজনক সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও তাদেরকে লাঞ্ছিত হয়ে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। 

এদিকে ভোক্তাদের মাঝে তেল সরবরাহ করতেও হিমসিম খেতে হয়েছে পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশন মালিকদের। আবার তেল সরবরাহের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতাদেরও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে দেখা গেছে। 

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার দৌলতপুর উপজেলার ৩টি ও পাশর্^বর্তী ভেড়ামারা উপজেলার ১টি পেট্রোল পাম্প বা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সব ফিলিং স্টেশনেই ছিল দীর্ঘ লাইন ও জটলা। উপজেলার তারাগুনিয়ায় সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লাদর্গায় রফিক ফিলিং স্টেশন ও আল্লারদর্গার পার্শ্ববর্তী দফাদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে একইচিত্র। 

ভোর থেকেই বাইকাররা তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে সামিল হয় পেট্রোল নেয়ার জন্য। এর ফলে আল্লারদর্গা বাজার থেকে তারাগুনিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ লাইন পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বাড়ে জনভোগান্তিও। তবে তারাগুনিয়া সাগর ফিলিং স্টেশনে সুশৃঙ্খলভাবে তেল সরবরাহে স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনের এমপি আলহাজ রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লার বড় ছেলে আসিফ রেজা শিশির মোল্লাকে নিরলসভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখে তেল সরবরাহে ফিলিং স্টেশন মালিককে সার্বিক সহযোগিতা করতে দেখা গেছে।

এদিকে সবচেয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ ছিল আল্লাদর্গা রফিক ফিলিং স্টেশনে। দীর্ঘ লাইন ও জটলা পরিবেশে জালানি তেল সরবরাহে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে সকাল থেকে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলেও তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ফিরেছে অনেকে। স্থানীয় এক গণমাধ্যম কর্মী আল্লাদর্গা রফিক ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে তারাগুনিয়া সাগর ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন স্বস্থি নিয়ে। 

অন্যদিকে দৌলতপুরের প্রবীণ সাংবাদিক এম মামুন রেজা ও সাইদুর রহমান তারাগুনিয়া সাগর ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল নিয়ে তেল সরবরাহ করতে গেলে সেখানকার এক অযাচিত ব্যক্তি তাদের তেল নিতে বাঁধা দেয় বলে প্রবীণ দুই গণমাধ্যম কর্মী জানিয়েছেন। এমনকি ওই অযাচিত ব্যক্তি গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে অসাদাচারণও করেছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও একইচিত্র ছিল খলিশাকুন্ডি হাবিব ফিলিং স্টেশন এবং আল্লারদর্গার পার্শ্ববর্তী দফাদার ফিলিং স্টেশনে। সেখানেও ছিল দীর্ঘ লাইন ও জটলা।

উল্লেখ্য, চলমান জ্বালানি তেল সংকট নিরসন এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও সিন্ডিকেট মুক্ত রাখতে দৌলতপুর উপজেলা প্রশাসন ও ফিলিং স্টেশন মালিকদের শনিবার সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

দৌলতপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ-এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দৌলতপুর উপজেলার তিনটি ফিলিং স্টেশন যথাক্রমে তারাগুনিয়ায় সাগর ফিলিং স্টেশন, আল্লাদর্গায় রফিক ফিলিং স্টেশন এবং খলিশাকুন্ডিতে হাবিব ফিলিং স্টেশন এবং আল্লাদর্গার পার্শ্ববর্তী ভেড়ামারা উপজেলার দফাদার ফিলিং স্টেশনে একই সময়ে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জনপ্রতি ৫০০ টাকার তেল সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়। 

এছাড়াও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, যেমন পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সাংবাদিকদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্ত বাস্তবে ছিল উল্টো চিত্র। প্রশাসনের নেওয়া এমন সিদ্ধান্তকে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন মালিকদের অমান্য করতে দেখা গেছে। দৌলতপুরে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা ফিরতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগী জনসাধারণ।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪