ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় এক সাংবাদিককে থানায় ডেকে নিয়ে ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে হত্যা মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি এবং শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লার অপসারণের দাবি জানানো হয়। কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ মিছিল পোস্ট অফিস মোড় থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দৈনিক এদিন প্রতিনিধি সুজন বিপ্লবের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক দেলোয়ার কবির, জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি এম এ কবির, শৈলকুপা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিহাব মল্লিক, ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আল এনাম এবং ভুক্তভোগী সাংবাদিকের স্ত্রী শান্তা খাতুন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে ওসি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা বলেন, যে সাংবাদিকের দাদা প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন, তাকেই আসামি করে আদালতে পাঠানো নজিরবিহীন এবং পুলিশের জন্য লজ্জাজনক। এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ওই ওসিকে শৈলকুপায় রাখা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
এদিকে সচেতন মহল ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ওসির অপসারণ, সাংবাদিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে আশরাফুল ইসলামকে থানায় ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন রোববার দুপুর পর্যন্ত তাকে থানায় আটকে রাখার পর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। নিহত মোহন শেখ ভুক্তভোগী সাংবাদিকের চাচাতো দাদা ছিলেন এবং গত ২৩ এপ্রিল সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত হন।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন