স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদাকে রাতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। দায়ের করা মামলায় উল্লিখিত অভিযোগ, ২০১৮ সালের অনুষ্ঠিত ভুয়া জাতীয় নির্বাচনের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমাউল হক বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম-কারচুপির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আসামি করে বিএনপির পক্ষ থেকে ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন নুরুল হুদা।
বিএনপির পক্ষ থেকে দায়ের মামলার মোট আসামি ২৪ জন। এর মধ্যে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের সাবেক ৪ আইজিও আসামি।
ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিবি হেফাজতে মামলার অভিযোগের ব্যাপারে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আগামীকাল সোমবার (২৩ জুন) সকালে রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
এর রোববার (২২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নুরুল হুদাকে গ্রেপ্তারের পর উত্তরা পশ্চিম থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিবির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সাবেক সিইসি নুরুল হুদাকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হতে পারে।
এর আগে, রোববার সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জনতার হাতে আটক হন নুরুল হুদা। তাকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন স্থানীয়রা।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, সাবেক সিইসি এ কে এম নুরুল হুদার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় প্রহসনের নির্বাচন করার অভিযোগে সাবেক তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলার আবেদন করে বিএনপি। দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল এ আবেদন জমা দেন।
যে ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলার আবেদন করা হয়, তাদের মধ্যে আছেন ২০১৪ সালের নির্বাচনের তৎকালীন সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ, নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুল মোবারক, আবু হানিফ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী, শাহ নেওয়াজ ও তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সচিবসহ প্রধান নির্বাচন কমিশন অফিসের অন্য কর্মকর্তারা।
এই তালিকায় আরও আছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারসহ অন্য সরকারি কর্মকর্তারা।
অভিযোগে আরও আসামি করা হয় ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন সিইসি এ কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে।
অভিযোগে একই সময়ে দায়িত্ব পালন করা তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী, তৎকালীন ঢাকা মহানগরের পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক প্রধান (অজ্ঞাত), জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসআই) সাবেক প্রধান (অজ্ঞাত) এবং পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল আলমের নাম উল্লেখ আছে।
সর্বশেষ ২০২৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব, আলমগীর হোসেন, আনিছুর রহমানসহ তৎকালীন নির্বাচন সচিবেরও নাম আছে ওই আবেদনে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএমএন