| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শাহজাদপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ৩ সপ্তাহেও গ্রেপ্তার হয়নি ধর্ষক

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২২, ২০২৬ ইং | ০১:১৪:১২:পূর্বাহ্ন  |  ১০৯১৫৭৯ বার পঠিত
শাহজাদপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ৩ সপ্তাহেও গ্রেপ্তার হয়নি ধর্ষক

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: ঘটনার প্রায় ২২ দিন অতিবাহিত হলেও ধর্ষক রফিকুল ইসলাম রাকিবুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারায় ধর্ষিতার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের খামারশালিনা গ্রামের মৃত আজহার প্রামাণিকের ছেলে গ্রাম ডাক্তার রফিকুল ইসলাম রাকিবুল গত ২৮ জুন, রবিবার দুপুরে তার প্রতিবেশী মনিরুল ইসলামের শিশু কন্যা—বিলকলমী পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে মুখে গামছা বেঁধে ধর্ষণ করে। বিষয়টি শিশুটি তার মা-বাবাকে জানালে ধর্ষক রাকিবুল বাড়ি থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করে।

এদিকে ধর্ষিতার মা-বাবা জানান, লম্পট রাকিবুল পেশায় একজন গ্রাম ডাক্তার। তাদের মেয়ে রাকিবুলকে 'দাদা ভাইয়া' বলে ডাকত। খামারশালিনা বাজারে রাকিবুলের একটি গো-খাদ্যের দোকান ও ছোট একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। রফিকুল ইসলাম রাকিবুলের স্ত্রী ফিরোজা বেগম গ্রামেই অবস্থিত বিলকলমী পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ধর্ষিতা শিশুটি ওই স্কুলেরই পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।

ধর্ষিতার মা অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে দিয়ে প্রায়ই শিক্ষক ফিরোজা বেগম সংসারের কাজকর্ম করাতেন। ওই শিক্ষক তাদের প্রতিবেশী হওয়ায় তার মেয়েকে ডাকলেও কোনোদিন তারা বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখেননি। গত ২৮ জুন তার মেয়ের ওপর এ ধরনের পাশবিক আচরণ করায় তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রাকিবুল গ্রাম থেকে পালিয়ে যায়।

বিলকলমী পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ধর্ষকের স্ত্রী ফিরোজা বেগম জানান, "আমরা প্রতিবেশী হলেও ওই ছাত্রীকে দিয়ে কোনো কাজ করাইনি।"

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা জানান, ছাত্রীটির অভিভাবকদের কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুরাদ হোসেন জানান, ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের কাছ থেকে শিক্ষক ফিরোজা বেগমের নামে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি বলেন, ওই ছাত্রীর বাড়িতে তার অফিস থেকে কর্মকর্তা গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রীর মা জানান, স্কুলের শিক্ষকেরা আসলেও ঘটনার পর শিক্ষা অফিসের কেউ তাদের বাড়িতে আসেননি।

এদিকে শাহজাদপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) নাজমুল কাদের জানান, ঘটনার পর গত ৫ জুলাই ধর্ষিতার মা তাসলিমা খাতুন নিজেই বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ভিকটিম জবানবন্দিও দিয়েছে। তিনি জানান, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের সবকটি থানায় বিষয়টি জানিয়ে আসামিকে ধরতে বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং র‌্যাবকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রাজ্জাক জানান, থানায় মামলা রুজুর পর থেকে আসামি আত্মগোপনে রয়েছে, তাই তাকে এখনো ধরা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ কঠোর নজরদারি রাখছে।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নিতে থানার সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই আসামিকে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪