| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইউএনওর কার্যালয়ে কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি লাঞ্ছিত, অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৯, ২০২৬ ইং | ০৩:১৩:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ১০০৪৭৭৫ বার পঠিত
ইউএনওর কার্যালয়ে কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি লাঞ্ছিত, অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়াকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবদলের ওই নেতার নাম হামিদুর রহমান মলিন। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মারধরের শিকার আব্দুল লতিফ মিয়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী পদে কর্মরত।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক ও প্রশাসক গোপনীয় সহকারীর (সিএটু) কক্ষে এঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটিসংক্রান্ত স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই একপক্ষের লোকজন সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মচারী আব্দুল লতিফ মিয়াকে মারধর করেছে মর্মে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন এতিমখানার পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। পুনরায় কমিটির অনুমোদনের জন্য  এতিমখানার আগের কমিটির লোকজন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেন। এই খবর পেয়ে পরবর্তীতে অপরপক্ষ কমিটির অনুমোদন চান। এনিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে দুই পক্ষের আবেদনই জেলা কার্যালয়ে প্রেরণ করেন কর্তৃপক্ষ।  

ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, 'আজ বিকেলে ফ্যামিলি কার্ড জরিপ কাজে সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ইউএনও স্যারের কার্যালয়র আমার পেশাগত দায়িত্ব ছিলো। আমি যথা সময়ে উপস্থিত হয়ে ইউএনও স্যারের কার্যালয়ের পাশে সিএটু সুমন মণ্ডলের কক্ষে অবস্থান করি। এসময় আমার মোবাইল ফোনে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। কল রিসিভ করা মাত্রই অপরিচিত ব্যক্তি আমাকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে যাওয়ার জন্য ডাকেন। আমি নিয়োগ পরীক্ষার কাজে থাকার বিষয়টি তাঁকে জানাই। 

আব্দুল লতিফ মিয়া আরও বলেন, যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনের নেতৃত্বে একদল অপরিচিত লোক এসে এতিমখানার কমিটি অনুমোদন কেন হচ্ছে না; তা আমার কাছে জানতে চায়। বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা মাত্রই গালাগালি করাসহ তাঁরা আমার ওপর হামলা করে। আমাকে কিল-ঘুষি দেয়। খবর পেয়ে পাশে অবস্থান করা আনসার সদস্য এবং সরকারি কর্মচারীরা আমাকে উদ্ধার করে। পরে বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং ইউএনও স্যাকে অবগত করেছি।'

উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক ও প্রশাসক গোপনীয় সহকারীর (সিএটু) মো. সুমন মণ্ডল বলেন, 'আনসার সদস্যসহ অন্যান্য কর্মচারীদের চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।'

ইউএনওর উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা এহসানুল হক বলেন, 'মারধর করা হয়েছে কি না; সেটা দেখিনি।পাশে আমার কক্ষে অবস্থানকালে হৈ-হুল্লোড় শোনতে পাই। দ্রুত সেখানে গিয়ে সবার সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।'

ইউএনওর কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ইব্রাহিম খলিল বলেন, 'ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা বিষয়টি নিয়ে দুঃখিত।'

অভিযুক্ত যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিন বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মূলত  এতিমখানার কমিটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। আমি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। এখন উল্টো আমার বিরুদ্ধেই মনগড়া অভিযোগ করা হচ্ছে। যিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, তিনি কমিটি অনুমোদনের জন্য ২০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছে।'

ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের বলেন, 'ভুক্তভোগীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার জানেন। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

মারধরের ঘটনা ঘটেছে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, 'আমি ঘটনা সময় বাইরে ছিলাম। কার্যালয়ে গিয়ে অবগত হয়েছি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। আগামীকাল আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।'

ইউএনও আরও বলেন, 'বিষয়টি যেহেতু আমার দপ্তরের পাশে ঘটেছে। সেহেতু বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া একজন সরকারি কর্মচারীকে তো কেউ মারধর করতে পারে না।'

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪