স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা থেকে ফিফা পিছু হটলেও সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ কমছেই না। এবার উয়েফার সঙ্গে সুর মিলিয়ে সরাসরি ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের পুনর্মূল্যায়ন ও কঠোর পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।
ইনফান্তিনোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ফুটবলের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়ায় এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হওয়ায় তাকে ফিফা সভাপতির পদ থেকে অপসারণের পক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে যে দাবি উঠেছে, তাতে এবার যোগ দিল ইংলিশ ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থাটি।
‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামের অঙ্গসংস্থার মাধ্যমে বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রি করে ৩১০ কোটি পাউন্ড অর্থ তোলার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো।
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এতে রাজি হওয়া সদস্য দেশগুলোকে প্রতিটি দেশের জন্য ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড আর্থিক প্রণোদনার প্রলোভনও দেওয়া হয়েছিল। তবে এই আর্থিক প্রস্তাব ফুটবলের উন্নতির চেয়ে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা হিসেবেই দেখে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহল। ফলস্বরূপ উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসিসহ বিশ্বের একাধিক কনফেডারেশন একযোগে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এমনকি ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক স্পেন ও পর্তুগাল বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি পর্যন্ত দেয়।
বাহ্যিক চাপের পাশাপাশি ঘরের ভেতরেও চরম তোপের মুখে পড়েন ইনফান্তিনো। গত ৩০ জুলাই তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো এটিকে ‘ফুটবলের জন্য একটি বাজে চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে পদত্যাগ করেন। আর ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর প্রকাশ্যে জানান, ইনফান্তিনোর এমন আড়ালে কাজ করার মানসিকতায় তিনি ‘প্রতারিত’ বোধ করছেন। সব দিক থেকে চরম ব্যাকফুটে পড়ে অবশেষে শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রস্তাব তুলে নেওয়ার কথা নিশ্চিত করে ফিফা।
তবে পরিকল্পনা বাতিল করলেও পার পাচ্ছেন না ইনফান্তিনো। উয়েফা আগেই তার ওপর থেকে আস্থা হারানোর ঘোষণা দিয়েছিল। সেই বার্তার ধারাবাহিকতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইংলিশ এফএ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, ‘আমরা উয়েফার অবস্থানকে পুরোপুরি সমর্থন করি। এখন সময় এসেছে ফিফার নেতৃত্ব ও শাসনের একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী পর্যালোচনার, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে বিশ্ব ফুটবল স্বচ্ছতার সঙ্গে, ২১১টি সদস্য দেশের স্বার্থে এবং ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাকে কেন্দ্রে রেখে পরিচালিত হচ্ছে।’
সাধারণ যেকোনো সংস্থায় এত বড় একটি ব্যর্থতার পর পদত্যাগ করাই নিয়ম হলেও, ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করেন সাবেক এফএ চেয়ারম্যান ডেভিড বার্নস্টেইন। বিবিসি স্পোর্টসকে তিনি জানান, ‘যেকোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠানে এই আকারের ব্যর্থতার পর তাকে হয়তো দরজা দেখিয়ে বের করে দেওয়া হতো। কিন্তু ফিফা কোনো সাধারণ প্রতিষ্ঠান নয়। সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে যদি এখনও যথেষ্ট সমর্থন তার হাতে থাকে, তবে তিনি হয়তো নিজের পদ ধরে রাখতে পারবেন।’
তবে এফএ ও উয়েফার মতো প্রভাবশালী সংস্থাগুলো যেভাবে তার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে, তাতে আগামী দিনে ইনফান্তিনোর মসনদ টিকিয়ে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব