ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে হরিপুর থানায় মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর বাবা। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে প্রতিবেশী যুবক মো. সোহাগ আলীকে (১৯)।
থানায় দেওয়া এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী হরিপুর উপজেলার রুহিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত সোহাগ আলী দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে অনুসরণ ও বিরক্ত করার অভিযোগও করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ছাত্রীর পরিবার অভিযুক্তের স্বজনদের কাছে অভিযোগ জানায়।
এজাহারে বলা হয়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে কাপড় কিনতে রানীশংকৈল বাজারে যান ওই ছাত্রী। বিকেলে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারেন, হরিপুর উপজেলার যাদুরানী আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের সামনে একটি অটোরিকশা থামিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি জোর করে ওই ছাত্রীকে নামিয়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।
বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সোহাগ আলী ও তাঁর সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করেছেন। পরে অভিযুক্তদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে টালবাহানা করেন। এমনকি মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অপহরণের পর নাবালিকাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় মামলা করেন ছাত্রীর বাবা মো. মনসুর আলম।
হরিপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ