| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে সমকামিতার ঘটনা সাজানো, দাবি অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৪, ২০২৬ ইং | ২০:৪৯:২৬:অপরাহ্ন  |  ৯৭১ বার পঠিত
ঢাবির শহীদুল্লাহ হলে সমকামিতার ঘটনা সাজানো, দাবি অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থীর

নোয়াখালী প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে হল সংসদের এজিএস ও শিবির নেতা ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে তার দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা। তাদের অভিযোগ—ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করেছেন এজিএসের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেল।

সম্প্রতি নোয়াখালী সদর উপজেলার বাসিন্দা অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী ফারহান ভূঁইয়া ও মো. আরমান হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার এই বিবরণ দেন।

ফারহানের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তার বাবা নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বাটাইয়া ইউনিয়নের একটি মাদ্রাসায় ৪০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন এবং তার বড় ভাই মাওলানা দিদার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রধান। ফারহান নিজে নোয়াখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং তার বন্ধু আরমানও একই এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফারহান ভূঁইয়া জানান, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার জন্য ডাক্তার দেখাতে বন্ধু আরমানকে সঙ্গে নিয়ে গত ২৬ জুলাই রাতে ঢাকায় আসেন। সম্পর্কে তার মামা শহীদুল্লাহ হলের এজিএস ইব্রাহিম খলিলের রুমে ওঠেন তারা। পরদিন সকালে ইব্রাহিম খলিল ক্লাসে চলে যাওয়ার পর দুই বন্ধু বাইরে ঘোরাঘুরি শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবার কক্ষে ফিরে আসেন।

ফারহান ও আরমানের ভাষ্যমতে, গোসল শেষে তারা দুইজন জানালার পাশে বসে মোবাইলে ‘কাজল চোখের মেয়ে’ নামের একটি নাটক দেখছিলেন। নেটওয়ার্ক ভালো থাকায় তারা ইব্রাহিমের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেলের বেডের দিকে বসেছিলেন। তখন আরমান বসেছিলেন এবং ফারহান তার কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে নাটক দেখছিলেন।

এমন সময় কক্ষে প্রবেশ করেন ইউসুফ আরেফিন রুমেল। তাদেরকে ওভাবে দেখে তিনি তাদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বেড নষ্ট করার অভিযোগ আনেন।

ফারহান অভিযোগ করে বলেন, রুমেল ভাই আমাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অনৈতিক কাজের অভিযোগ স্বীকার করতে চাপ দেন। তিনি নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে দুই মিনিটের মধ্যে আমাদের রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। জামাকাপড় পরার সময় তিনি শিখিয়ে দেন—‘আমরা ভুল করেছি, শয়তানের ধোঁকায় পড়েছি’— এই কথাগুলো বলতে। এরপর তিনি আমাদের না জানিয়ে বা কৌশলে সেই বক্তব্য ভিডিও ধারণ করেন।

আরমান হোসেন বলেন, আমরা কোনো অনৈতিক কাজ করিনি। ভিডিও ধারণের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন এবং বলেন যে এটা নিয়ে কিছু হবে না, আমরা যেন চলে যাই। পরে ডাক্তার দেখিয়ে আমরা নোয়াখালী ফিরে আসি।

এ বিষয়ে ফারহানের বড় ভাই মাওলানা দিদার মাহবুব বলেন, ঘটনাটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। আমরা সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। আমার ছোট ভাই যদি সত্যিই দোষী সাব্যস্ত হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে আমরা তা মেনে নেব।

অভিযুক্ত আরমানের বাবা, পেশায় সিএনজি অটোরিকশাচালক মিলন বলেন, আমার ছেলে কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না, আমি তা বিশ্বাস করি না।

মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা সিদ্দিক আহমদ নোমান এশিয়া পোস্টকে জানান, ছুটির মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। মাদ্রাসা খোলার পর তারা বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে নিজস্ব ভিডিও বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের শিবির নেতা ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেলকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪