ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও গোসলের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি মো. আল আমিনকে (৩০) গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। শুক্রবার রাত ৯টা ৫ মিনিটে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার ভাওরাইদ মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আল আমিন রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগাঁও গ্রামের মো. হানিফের ছেলে। শনিবার র্যাবের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। পরে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৩-এর রংপুর সদর কোম্পানি ও র্যাব-১-এর গাজীপুর সিপিএসসির যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী নারী তাঁর বাবার বাড়িতে গোসল করছিলেন। এ সময় মামলার অপর আসামি জনি বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই নারী বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর বাইরে থাকা আল আমিন তাঁর গলা ধরে আবার বাথরুমে নিয়ে যান। পরে জনি তাঁর নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন এবং তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর আল আমিনও তাঁকে ধর্ষণ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আসামিরা ধারণ করা ভিডিও অন্যত্র স্থানান্তর করেন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে ব্ল্যাকমেইল ও শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেওয়া হয়।
এজাহার অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২ আগস্ট অপর আসামি মাহবুব আলম তাঁর মুঠোফোনে থাকা ভিডিওটি ভুক্তভোগী নারীকে দেখান। ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় গত ২০ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৮। মামলা হওয়ার পর আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আল আমিনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ