| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

পায়ের অসহ্য যন্ত্রণায় আত্মহত্যার চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে খুন

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ইং | ১৯:০৭:১৪:অপরাহ্ন  |  ৪১৫ বার পঠিত
পায়ের অসহ্য যন্ত্রণায় আত্মহত্যার চেষ্টা, বাধা দেওয়ায় মা ও ভাতিজিকে খুন

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: পায়ের লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দীর্ঘদিনের অসহ্য যন্ত্রণা এবং পঙ্গুত্ব থেকে মুক্তি পেতে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন যুবক ইমন (২৪)। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নিজ মা ও ভাবি। সেই বাধার জেরে সৃষ্ট ক্ষোভ থে‌কেই জন্মদাত্রী মা ও অবুঝ ৬ মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত‌কে হত্যা ক‌রেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড় ৮টার দিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন—বড়শালঘর গ্রামের মৃত ফরিদ মিয়ার স্ত্রী ও ঘাতক ইমনের মা পেয়ারা বেগম (৬২) এবং ইমনের ৬ মাস বয়সী ভাতিজি ইসরাত। এ ঘটনায় ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পু‌লিশ ও স্থানীয়রা জানান, মৃত ফরিদ মিয়ার ছোট ছেলে ইমন ৫ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে মারাত্মক আঘাত পান এবং তার লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারতেন না। ক্রমাগত চিকিৎসা করিয়েও সুফল পাননি। ইতোমধ্যে বন্ধু ও স্বজন‌দের সহায়তায় দুই দফা পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে যন্ত্রণা আ‌রো বে‌ড়ে যায়। 

সম্প্রতি ডাক্তার দে‌খি‌য়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর পায়ের যন্ত্রণা আরও অসহ্য রূপ নেয়। দীর্ঘদিনের পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দা‌রিদ্রতা ও পা‌য়ের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকবার আত্মহত্যার পথও খোঁজেন। গত রবিবার রাতে পায়ের তীব্র যন্ত্রণা সইতে না পেরে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মা পেয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন।

আত্মহত্যায় বাধা দেওয়ার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে ইমন মা ও ভাবির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরে থাকা ধারালো দা দি‌য়ে তা‌কে হত্যা কর‌তে নয়‌তো পা কে‌টে দি‌তে মা পেয়ারা বেগমকে অনু‌রোধ ক‌রে। মা তা‌কে নিবৃত কর‌তে গে‌লে ইমন তা‌কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। শাশুরী‌কে বাচা‌তে রা‌বেয়া ছুটে এলে তার কো‌লে থাকা ৬ মাসের শিশু ইসরাতকে তু‌লে নিয়ে দুইবার আছাড় মারেন। এ সময় ভাবি রাবেয়া বেগমকে লা‌ঠি দি‌য়ে পি‌টি‌য়ে গুরুতর আহত করে সে।

চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা পেয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ভাবি রাবেয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ঘাতক ইমনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেয়। খবর পে‌য়ে পি‌বিআই ও সিআই‌ডির দু‌টি টিমও ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন ক‌রে এবং তথ্য উপাত্য সংগ্রহ ক‌রে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘পায়ের যন্ত্রণায় মানসিক ডিসঅর্ডারে ভোগা ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল এবং তাতে বাধা দেওয়ায় সে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আমরা দুটি মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪