| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাসাইলে নির্মানাধীন ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের ওপর ঢালাই

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ইং | ১৯:৪৮:৩০:অপরাহ্ন  |  ৪৪৪ বার পঠিত
বাসাইলে নির্মানাধীন ব্রিজে রডের পরিবর্তে বাঁশের ওপর ঢালাই

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইল পৌর এলাকায় ১০ কোটি টাকার একটি নির্মানাধীন  ব্রিজে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালির ওপর ঢালাই দেওয়া হয়েছে।  চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে এই ব্রিজ নির্মাণে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হুমকি দেয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। 

জানা যায়, বাসাইল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজখাড়া এলাকায় ২ হাজার ৩০৫ মিটার চেইনেজে ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার ব্রিজ  নির্মাণে চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছে  ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার ৬৫ টাকা। 

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এই ব্রিজ নির্মাণ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টার প্রাইজ রাতের আঁধারে স্থানীয়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশের ফালি ব্যবহার করে। 

অভিযোগ উঠেছে, রাত ১২টার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত চলে তাদের এই অনৈতিক কার্যক্রম। রড-সিমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোতে এভাবে বাঁশের ব্যবহার জননিরাপত্তাকে সরাসরি ঠেলে দিয়েছে চরম হুমকির মুখে। 

স্থানীয়রা জানান, তাদের চোখ ফাঁকি দিতে ব্রিজের ঢালাইয়ের কাজ করা হতো রাতের আঁধারে। কিন্তু এলাকাবাসীর সন্দেহের জেরে ফাঁস হয়ে যায় অনিয়মের চরম এ চিত্র। 

বাসাইলের শিহাব খানশুর বলেন , ১০ কোটি টাকার সরকারি প্রজেক্টে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার কেবল অনিয়মই নয়, এটি সুস্পষ্টভাবে গণহত্যার ষড়যন্ত্রের শামিল। দায় এড়ানোর এ সংস্কৃতি আর অদক্ষতার পেছনে কারা জড়িত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তা উন্মোচিত হবে? নাকি অন্যান্য অনেক ঘটনার মতো এটিও ধামাচাপা পড়ে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।"

মাইজখাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজ মিয়া বলেন, আমরা ঘুমানোর পর ঠিকাদারের লোকজন কাজ করে। এলাকার লোকজন এ নিয়ে কথা বলার কারণে তাদের নামে চাঁদাবাজি মামলার হুমকি দিয়েছে। 

বাসাইল উত্তর পাড়ার শিহাব খানশুর বলেন, এ ব্রিজ নির্মাণে অনিয়মের শেষ নাই। এই অনিয়মের সাথে জড়িত স্থানীয় প্রভাবশালী লোক। আমরা চাই তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।

ব্রিজের নির্মাণ কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। বিষয়টি জেলার নির্বাহী  প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার কথা বলছেন তারা। 

বাসাইলের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের না জানিয়ে রাতের আঁধারে তারা কাজ করেছে। ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের পাওয়া যায়নি। 

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, এমন ঘটনা শুনে তিনি  নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পান।দ্রুত সময়ের মধ্যে এ অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এছাড়া এ  ধরনের অনিয়ম কোন অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪