| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

৮ বছর ধরে নিজের টাকায় জনসেবা করছেন টাঙ্গাইলের ছাত্তার

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ইং | ১৯:৫০:১৩:অপরাহ্ন  |  ৩২৯ বার পঠিত
৮ বছর ধরে নিজের টাকায় জনসেবা করছেন টাঙ্গাইলের ছাত্তার

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: জনপ্রতিনিধি না হয়েও ইচ্ছা শক্তি থাকলে জনসেবা করা যায় তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সাত্তার। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ৮ বছর ধরে নিজের টাকায় ৬২টি গ্রামীণ সড়ক সংস্কার করেছেন টাঙ্গাইলের আ. ছাত্তার সিকদার। তার এমন উদ্যোগে গ্রামীণ জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে ভিন্নচিত্র। 

জানা যায়, জেলার মির্জাপুর উপজেলার ৯নং বহুরিয়া ইউনিয়নের মৃত জয়নাল সিকদারের ছেলে আ. ছাত্তার সিকদার এপর্যন্ত ২০ গ্রামের ৬০ থেকে ৭০টি সড়ক সংস্কার করেছেন।

এছাড়াও তিনি স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান এবং মন্দিরে আধলা ইট ফেলে চলাচলের উপযোগী করেছেন। ৩ বছরে এসব কাজ করতে  তিনি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেছন।  

কাদা মাটির পথ, খানাখন্দ আর বর্ষার পানিতে তলিয়ে থাকা রাস্তা, এক সময় এসব রাস্তা  দিয়ে চলাচল করতে এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে  হত। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিতে এ দুর্ভোগ বাড়ত আরো কয়েকগুণ। অনেক সময় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত গ্রামীণ এসব রাস্তা । ওইসব  পাকা, আধা পাকা এবং কাচা রাস্তা সংস্কার করেছেন আ. ছাত্তার সিকদার। এ কাজের ফলে তিনি এলাকাবাসীর দোয়া ও ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অদম্য ইচ্ছা থাকলে জনগণের সেবা করা যায়।

গোহাইলবাড়ী গ্রামের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া জানান,জনপ্রতিনিধি না হয়েও তিনি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে অনেক দিন ধরেই এলাকাবাসীর কাজ করে যাচ্ছেন। তবে গত তিন বছরে  মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের অন্তত ২০ গ্রামের ৬২টি সড়কে ভাঙা ইট ফেলে সংস্কার করেছেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ শে জুলাই এর পর থেকে বহুরিয়া ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড না থাকায় রাস্তাঘাটে জনগণের চলাচল ব্যাহত হত। ইউনিয়নটি  নিম্নাঞ্চল হওয়ায় মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ কারণে  সরকারি কোনো প্রকল্পের ভরসা না করে আ: সাত্তার সিকদার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজের টাকায় এসব কাজ করে যাচ্ছেন।

এ অঞ্চলে বর্ষায় কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয়রা জনপ্রতিনিধিকে না বলে তাঁকে খবর দেন। আর খবর পেলেই তাঁর ইটভাটা থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ইটের গাড়ি। ইটভাটাতেও রাখা হয়েছে আধলা ইট মানুষের প্রয়োজনে যেকোনো সময় রাস্তায় ফেলার জন্য।

স্থানীয়রা আরো বলছেন, সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এমন বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থ ব্যয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় ছাত্তার হয়ে উঠেছেন এলাকার জনপ্রিয় একজন মানুষ। শুধু রাস্তা সংস্কারই নয়, এলাকার মানুষের বিপদে—আপদেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।

বহুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ তালুকদার ছাদুর জানান, জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা যায়। তার একমাত্র উদাহরণ আ: সাত্তার। তিনি ইতিমধ্যেই মানুষের পাশে থেকে কাজ করে বদলে দিয়েছে  গ্রামীণ জনপদের চিত্র । এর বিপরীতে তিনি কুড়িয়েছেন  গ্রামের মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা।

তিনি আরো মন্তব্য করেন তার বাবাও একসময়  অসহায় গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতেন ।যদিও তার কোন সামর্থ্য ছিল না বিধায় তিনি উন্নয়ন কর্মকান্ড করতে পারেননি। আজ তার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো তার ছেলে করে যাচ্ছে।  

আ: ছাত্তার সিকদার বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই বাবার কথা স্মরণ করেই কাজ শুরু করেছি। আমি অন্য কোন চিন্তা বা প্রাপ্তির আশায় এসব কাজ করি না। 

নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। বাবা মারা গেছেন প্রায় ৮ বছর হলো। তখন থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।  

তবে গত ৩ বছর ধরে বহুরিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদের কাজ করে যাচ্ছি। এরমধ্যে আড়াই পাড়া,গবড়া, দিগুলিয়া গোহাইলবাড়ি, চান্দুলিয়া এবং গুদির পাড়ায় বেশ কিছু কাঁচা, আদাপাকা এবং পাকা সড়ক সংস্কার করেছি।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪