| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: উপসহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে শোকজ

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ইং | ২০:০৬:১৯:অপরাহ্ন  |  ৩৮৭ বার পঠিত
সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: উপসহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে শোকজ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রাতের আঁধারে ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কাজের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে।

আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় ভোলার মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের দায়িত্বে ছিলেন বাসাইলের উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান।

১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে সেতুটির কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে।

স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়। এ সময় স্থানীয়রা মোবাইলে কাজের ভিডিও ধারণ করে চলে যাওয়ার পর রাতের মধ্যেই তারা কাজটি শেষ করে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসে। বিষিয়টি নিয়ে বিভিন্ন টেলিভিশন, প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইনে সংবাদ প্রচার হওয়ায় কর্তৃপক্ষ চড়েচড়ে বসেছে।

এদিকে এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) আহাদি হোসেনকে আহ্বায়ক, বাসাইল পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী রবিউল আলম এবং উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আলতাব হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশসহ রেকটিফিকেশন করণ ও গাফিলতির জন্য কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিম্নমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় উপসহাকরী প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানো নোটিশসহ রেকটিফিকেশন করণ ও গাফিলতির জন্য কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।’ 

বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪