| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঢাকা-মানিকগঞ্জ-মির্জাপুর সংযোগের সহজ মাধ্যম

টাঙ্গাইলে কামারপাড়া ব্রিজ যেন এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম

reporter
  • আপডেট টাইম: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ইং | ২১:১৭:৩৯:অপরাহ্ন  |  ৮০৫ বার পঠিত
টাঙ্গাইলে কামারপাড়া ব্রিজ যেন এক অন্তহীন দুর্ভোগের নাম

রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মাণের ছয় বছর পার হলেও ব্রিজের সুফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। মূল ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ রাখার পর এবার সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) নির্মাণকাজে দেখা দিয়েছে চরম স্থবিরতা। ফলে নিত্যদিনের যাতায়াতে তীব্র ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ। বর্তমানে অচল পড়ে থাকা এই ব্রিজে উঠতে স্থানীয়দের ব্যবহার করতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো।

এলজিইডি সূত্রে জানাগেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে কামারপাড়া নদীর ওপর ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো ব্রিজের রেলিং নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি পড়ে আছে। মূল কাঠামোর কাজ শেষে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন আটকে থাকে সংযোগ সড়ক নির্মাণ। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুন মাসে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শুরু হলেও গত ১৫ মাসে তার অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই স্থানীয়দের ঝুঁঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো বেয়ে ব্রিজে উঠে নদী পার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে কামারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়- জনদুর্ভোগের এক চরম চিত্র। ব্রিজের উত্তর পাশে নামমাত্র কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হলেও তা এখন প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একদিন কাজ করলে সাতদিন কাজ বন্ধ রাখে। ফলে মূল রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ ফুট খাড়া ও আঁকাবাঁকা ঢালু পথ বেয়ে অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণভাবে মানুষ ব্রিজে উঠছেন। অন্যদিকে, ব্রিজের দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে ব্রিজের ওপর পর্যন্ত একটি বাঁশের সাঁকো দেওয়া হয়েছে। সময় ও শ্রম বাঁচাতে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ শ’ শ’ মানুষ এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

কামারপাড়া গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ মজিবর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার বয়স সত্তরে পৌঁছেছে। অনেক ইচ্ছা ছিল এই ব্রিজের ওপর দিয়ে হেঁটে পার হয়ে বাজারে যাবো। কাজের যে অবস্থা তাতে সেই আশা পূরণ হবে কিনা আল্লাহই জানেন। কর্তৃপক্ষের এদিকে দ্রুত নজর দেওয়া উচিত।’

একই গ্রামের বাসিন্দা আবজাল হোসেন ব্রিজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কামারপাড়া নদীর ওপর ব্রিজটি সম্পূর্ণ হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে। এতে মির্জাপুরের সাথে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। দক্ষিণ মির্জাপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, মির্জাপুর-কামারপাড়া-ধানতারা সড়কটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করা হোক। তাছাড়া মির্জাপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই সড়কটি একটি চমৎকার বিকল্প রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।’

ধীরগতির বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর পার্টনার মো. ইসলাম বলেন, ‘মূল ব্রিজটি হতে অনেক বেশি সময় লেগেছে, তাও আবার কিছুটা অসম্পূর্ণ। আসলে সংযোগ সড়কের কাজটা একটু জটিল। তাছাড়া ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা ছিল- যা নিরসন করতে বেশ সময় লেগেছে। এর ওপর দীর্ঘ একটা সময় বৃষ্টি থাকায় কাজ ব্যাহত হয়েছে। তবে কাজ শেষ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা কাজ সম্পূর্ণ করতে পারব।’

ভাওড়া ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ব্রিজের মূল কাজে এমনিতেই অনেক বেশি সময় নেওয়া হয়েছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় অনেকদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরবর্তীতে আমি ঠিকাদার এবং স্থানীয়দের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন জমি সংক্রান্ত সব ঝামেলা শেষ, কাজও চলছে। তবে জনভোগান্তি কমাতে কাজের গতি আরো অনেক বাড়ানো দরকার বলে আমি মনে করি।’

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি মির্জাপুরে যোগদান করেই এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর দিকে বিশেষ নজর দিয়েছি। কামারপাড়া ব্রিজের বাকি থাকা পুরো কাজ এবং সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের ইতিপূর্বেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের জটিলতা এখন নিরসন হয়েছে।’

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন জানান, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বা জনভোগান্তি তৈরি করা বরদাশত করা হবে না। কামারপাড়া ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে জমি সংক্রান্ত যেসব আইনি ও স্থানীয় জটিলতা ছিল- তা ইতোমধ্যেই সমাধান করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির প্রকৌশল বিভাগ থেকে কাজের নিয়মিত তদারকি চলছে। দ্রুতই ওই সেতুটি জনগণের যোগাযোগের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা যাবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪