পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় পৌর শহরের তুলারডাঙ্গা এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খাল থেকে রেজাউল করিম রেজা (৪০) নামে এক কম্পিউটার ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক কলহের জেরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন সকালে খাল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে তুলারডাঙ্গা এলাকায় রাস্তার পাশের একটি খালে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর দেওয়া হলে পঞ্চগড় থানা পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত রেজাউল করিম রেজা ঠাকুরগাঁও জেলার ভেলাজান এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড় পৌরসভার রাজনগর এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। পঞ্চগড় সদর থানার সামনে তাঁর একটি কম্পিউটার কম্পোজের দোকান রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে পারিবারিক একটি বিষয় নিয়ে রেজাউলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিমান করে রাত ১২টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি।
রেজাউল রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে রাতভর খোঁজ করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে তুলারডাঙ্গা এলাকায় খালের মধ্যে তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রেজাউল করিম রেজার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম