ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: দোকান টার্গেট করে পিকআপ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ঘুরত একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র। রাতে শাটারের এঙ্গেল ভেঙে দোকানে ঢুকে দামী ওষুধ বস্তায় ভরে পিকআপে করে নিয়ে যেত তারা। ঠাকুরগাঁও শহরের একটি ওষুধের দোকান থেকে ১৭ লাখ টাকার ওষুধ চুরির ঘটনায় এমন একটি আন্তঃজেলা চক্রের তিন সদস্য ও চোরাই ওষুধ কেনার অভিযোগে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি এটিএম গোলাম রসুল ও সদর থানার ওসি (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের গোবিন্দনগর বিসিক মোড়ের কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথের ওষুধের দোকানের শাটারের এঙ্গেল ভেঙে প্রায় ১৭ লাখ টাকার ওষুধ ও ক্যাশবক্সের ১০ হাজার টাকা চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজ, পিকআপ শনাক্তকরণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ চক্রটির সন্ধান পায়।
২৯ সেপ্টেম্বর রাতে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন (৬০), রাজু মিয়া (৩২) ও বিল্লাল হোসেন (৫৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ও মালামাল বহনের ১০টি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার তিনজন বিভিন্ন জেলায় দোকান টার্গেট করে চুরি করতেন।
পুলিশের দাবি, তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ফার্মেসি ব্যবসায়ী শিখর চন্দ্র সরকারকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো মতে গোবিন্দগঞ্জের একটি ফার্মেসি থেকে চুরি যাওয়া বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
দোকানমালিক কল্যাণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘প্রায় নয় লাখ টাকার মতো মালামাল উদ্ধার হয়েছে। এখনো হাতে পাইনি। সম্ভবত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওষুধগুলো হাতে পাব।’
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনকে আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং চক্রটি বিভিন্ন জেলায় একই কায়দায় আরও চুরি করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব