জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুরে গৃহবধূ মঞ্জুয়ারা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) উপজেলার চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা ব্রিজ এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শেরপুর জেলার ৭ নম্বর চর এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গৃহবধূ মঞ্জুয়ারাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। একটি নিরীহ প্রাণ এভাবে কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেবরের সন্তান না হওয়ায় মঞ্জুয়ারা নিজের সন্তানকে দেবরের কাছে দত্তক দেন। পরে দেবর প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী ওই সন্তানকে নির্যাতন শুরু করলে মা মঞ্জুয়ারা এর প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে স্বামী সুজন, দেবর লোকমান, লুৎফর ও শাশুড়ির সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে অভিযোগ করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার স্বামী সুজন, দেবর লোকমান, লুৎফর ও শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়ার একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা মঞ্জুয়ারাকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় জামালপুর আদালতে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন, দেবর লোকমান, লুৎফর, শাশুড়ি এবং ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, মঞ্জুয়ারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এ সময় মঞ্জুয়ারার স্বামী সুজন, দেবর লোকমান, লুৎফর ও হামিদুর রহমান মলিনসহ মামলার আসামিদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন বক্তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী বলেন, মঞ্জুয়ারা হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। ‘মঞ্জুয়ারা হত্যার বিচার চাই’, ‘হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করো’, ‘দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে’—এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে হরিণধরা ব্রিজ এলাকা।
এলাকাবাসী আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে নাড়া দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর দেখতে চান না তারা।
এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘হত্যা না আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ইসলামপুর থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে আদালতে একটি মামলা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আদালতের মামলাটি ইসলামপুর থানায় পৌঁছায়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব