| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দিল্লিতে ১০ অক্টোবর মহা-বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৩, ২০২৬ ইং | ১৯:০১:০০:অপরাহ্ন  |  ১৪৬৫ বার পঠিত
দিল্লিতে ১০ অক্টোবর মহা-বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির

আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষা ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন এবার জাতীয় স্তরে তীব্র আকার ধারণ করতে চলেছে। নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক বিশাল মহা-বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। 

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই আন্দোলনের ডাক দিয়ে দলের নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, প্রশাসনের হাজারো বাধা সত্ত্বেও এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস ও শান্তিপূর্ণ থাকবে।ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার সূচনা থেকেই দেশজুড়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। খসড়া তালিকায় কোটি কোটি যোগ্য ভোটারের নাম হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নাগরিক সমাজ ও গণআন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে সিজিপি। 

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে এই হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে সাধারণ নাগরিক, ছাত্র, যুব এবং আন্দোলনকর্মীরা দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে সমবেত হবেন। সিজিপি-র স্পষ্ট বার্তা—প্রশাসনের তরফে বলপ্রয়োগ বা পুলিশি বাধা দিয়ে এই প্রতিবাদ দমানো যাবে না। 

অভিজিৎ দিপকের কথায়, "যদি জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করেন, তবে ১০ অক্টোবর সারা ভারত থেকে প্রতিনিধিরা দিল্লিতে পদযাত্রা করবেন এবং জন্তর মন্তরে প্রতিবাদ জানাবেন। দিল্লি পুলিশ যদি আমাদের পথ আটকানোর চেষ্টা করে, তবে ঠিক যে স্থানে আমাদের থামানো হবে, সেই স্থানটিই আমাদের ‘জন্তর মন্তর’-এ পরিণত হবে।" 

আন্দোলনের রূপরেখা প্রসঙ্গে দলের তরফে জানানো হয়েছে, এই লড়াই কোনো সহিংস পথ অবলম্বন করবে না। ভারতের ঐতিহাসিক ‘আইন অমান্য আন্দোলন’-এর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং মহাত্মা গান্ধীর অহিংস দর্শনকে পাথেয় করেই এই গণসত্যাগ্রহ পরিচালিত হবে। সিজিপি নেতৃত্বের দাবি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ সুনিশ্চিত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। অতীতে দীর্ঘদিনের টানা আন্দোলন ও সাম্প্রতিক সময় একাধিক নেতৃত্বকে আটকের মতো ঘটনা ঘটলেও ‘প্রশাসনিক বাধা’ বা পুলিশি কড়াকড়ি তাঁদের সংকল্পকে টলাতে পারবে না। 

উল্লেখ্য, রাজপথের এই উত্তাপের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক মুম্বইয়ের এক বিশাল গণজমায়েত। এর ঠিক একদিন আগেই মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজী পার্কে কঠোর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ সিজিপি-র ডাকে একত্রিত হয়েছিলেন। সেখান থেকেই মূলত দিল্লির এই মহা-বিক্ষোভের রূপরেখা তৈরি হয়। 

ভোটাধিকার বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ কোটি কোটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে অভিজিৎ দিপকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এটি কোনো একক দলের লড়াই নয়, এটি আমাদের দেশ ও গণতন্ত্রকে বাঁচানোর লড়াই। যারা দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন চান, তাঁদের প্রত্যেককে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির রাজপথে আমাদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।"

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪