| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বগুড়ায় স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট, ৯৬৭ পদ শূন্য

চিকিৎসক সংকটে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম স্বাস্থ্য বিভাগ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৪, ২০২৬ ইং | ১৪:০৫:২১:অপরাহ্ন  |  ২৫০ বার পঠিত
চিকিৎসক সংকটে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম স্বাস্থ্য বিভাগ

বগুড়া প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মচারীর সংকটে ভুগছে বগুড়ার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। শয্যা ছাড়িয়ে মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে মঞ্জুরীকৃত ২ হাজার ৭৮৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৮২০ জন। অর্থাৎ ৯৬৭টি পদই শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসক পদে সবচেয়ে বড় সংকট। মঞ্জুরীকৃত ৪৮৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৪২ জন। শূন্য রয়েছে ২৪১টি পদ।

এ ছাড়া প্রথম শ্রেণির (চিকিৎসক ছাড়া) পাঁচটি পদের মধ্যে চারটি শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংশ্লিষ্ট ৪৪৩টি পদের মধ্যে ১১টি শূন্য। তৃতীয় শ্রেণির ১ হাজার ৫১৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১ হাজার ৬২ জন; শূন্য ৪৫৪টি। চতুর্থ শ্রেণির ৩৪০টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৩ জন, শূন্য রয়েছে ২৫৬টি পদ।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, জনবল সংকটের কারণে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ এবং ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানো হলেও সেই অনুপাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর প্রতিটি বিভাগেই জনবল সংকট রয়েছে।

জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক সংকটের চিত্রও উদ্বেগজনক। আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৫ জন। সান্তাহারের ২০ শয্যার হাসপাতালে ছয়টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত দুজন। দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪২ পদের বিপরীতে কর্মরত ২২ জন এবং শিবগঞ্জে ৩৯ পদের বিপরীতে ২১ জন।

আলিয়ারহাট ২০ শয্যার হাসপাতালে সাতজন চিকিৎসকের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। গাবতলীতে ৪২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ২০ জন। সোনাতলায় মঞ্জুরীকৃত ৩৭টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ২১টিই শূন্য। সারিয়াকান্দিতে ৪৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১৯ জন। ধুনটে ২৪ জন, শেরপুরে ১৯ জন এবং শাজাহানপুরে ২১ জন চিকিৎসক সংকট রয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৯ জন। সেখানে আটটি চিকিৎসক পদ শূন্য। একই প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৫৩টি পদও শূন্য রয়েছে। নন্দীগ্রামের ২০ শয্যার হাসপাতালে ছয়টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। এ ছাড়া কাহালুতে ২০টি, বগুড়া সদরে তিনটি, টিবি হাসপাতালে একটি, টিবি ক্লিনিকে একটি এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তিনটি চিকিৎসক পদ শূন্য রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক পদায়ন থাকলেও অনেকে ডেপুটেশনে অন্যত্র কর্মরত। ফলে বাস্তবে কর্মস্থলে চিকিৎসকের সংখ্যা আরও কমে যাচ্ছে। নার্স ও সহায়ক কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি।

নন্দীগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল মাহমুদ লিটন জানান, প্রতিদিন অন্তত ৯৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় শয্যার পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীদের রাখতে হচ্ছে। এর মধ্যেই কয়েকজন চিকিৎসক বদলি হয়েছেন। কেউ ছুটিতে, আবার কেউ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। একজন চিকিৎসক ঢাকায় কর্মরত আছেন।

তিনি আরও জানান, মেডিকেল অফিসার ডা. কাশমেরী আফরিন কোনো ধরনের ছুটি না নিয়েই বিদেশে চলে গেছেন। বর্তমানে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া ২০ শয্যার হাসপাতালের সার্জন, অ্যানেসথেসিয়া ও গাইনি বিশেষজ্ঞ ডেপুটেশনে অন্য হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।

এদিকে সরকারি হাসপাতালের জনবল সংকটের সুযোগ নিচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও প্যাথলজি সেন্টার এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলো। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার নামে কোথাও কোথাও রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও অপচিকিৎসার ঘটনা ঘটছে। এতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

এ পরিস্থিতিতে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। অস্ত্রোপচার ও ডেলিভারি কক্ষে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকা, হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকা, নিয়মিত দায়িত্বে চিকিৎসক না থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করা হচ্ছে।

বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল ইসলাম বলেন, সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে সাধ্যমতো রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এর সমাধান হয়নি। শয্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পাওয়া গেলে জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪