ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: বাব এল-মান্দেব প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই তাঁর দেশের ভেতর ইসরায়েলের উপস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তাদের টেনে নেওয়ার চেষ্টাও প্রতিহত করা হবে।
আল জাজিরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ইসরায়েল বারবারায় একটি নৌঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। তারা শহরের বিমানবন্দরটিও ব্যবহার করতে চায়। এর উদ্দেশ্য উপসাগরীয় দেশ ও ইরানের আরও কাছাকাছি পৌঁছানো।
সোমালিয়া এডেন উপসাগর তীরবর্তী দেশ। এই সাগর উপকূলের বারবারা বন্দর পড়েছে সোমালিল্যান্ডের মধ্যে। অঞ্চলটি নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়। তবে অঞ্চলটিকে এখনো নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে মোগাদিশু (সোমালিয়ার রাজধানী)।
বারবারা বন্দরটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত। এর অপর পাশে ইয়েমেন। ইরানে হামলার জেরে জলপথটিতে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিল হুতি বিদ্রোহীরা।
সাক্ষাৎকারে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইসরায়েলি পদক্ষেপে আমাদের দেশের জন্য কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব।’
হাসান মোহামুদ জানান, তেল আবিবের এই পরিকল্পনাগুলো তাদের ‘গ্রেটার ইসরায়েল’ বা বৃহত্তর ইসরায়েল প্রকল্পের অংশ। এর আওতায় তারা নিজ সীমানার বাইরের ভূখণ্ডগুলোতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বাইবেলের বিভিন্ন ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রকল্পটি তৈরি হয়েছে। এর সীমানা নীল নদ থেকে শুরু করে ইউফ্রেটিস বা ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটিকে সরকারি নীতি হিসেবে গ্রহণ করেনি। তবে গত বছরের আগস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ লক্ষ্যের সঙ্গে একাত্মতা অনুভবের কথা বলেন। তাঁর ওই মন্তব্যের পর আরব দেশগুলোতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী একটি শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, দেশটি কোনো আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে না। সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনায় তিনি তেল আবিবের কড়া সমালোচনাও করেছেন।
হাসান মোহামুদ বলেন, ইসরায়েল ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশ সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়নি। এই অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দারাও ইসরায়েলি উপস্থিতির বিরোধী।
সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজেদের স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের শাসনকাজ পরিচালনা করছে। গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলের পদক্ষেপের আগ পর্যন্ত তাদের জাতিসংঘের কোনো সদস্য দেশের স্বীকৃতি ছিল না।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব