| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৬, ২০২৬ ইং | ১৪:২৩:৩৯:অপরাহ্ন  |  ১০১০ বার পঠিত
বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধীরগতি অব্যাহত থাকবে: বিশ্বব্যাংক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি আগামী কয়েক বছরও অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আন্তর্জাতিক সংস্থাটির হিসাবে, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে থাকতে পারে। তবে ২০২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেটে দেশের অর্থনীতির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ‘মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের হিসাবের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। একইভাবে ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণে ঘাটতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগ কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে এবং রপ্তানির গতিও কমেছে। একই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতও চাপে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক খাতের দুর্বলতা ঋণপ্রবাহ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে দেশের বৈদেশিক খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরতে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।

তার মতে, এসব খাতে সংস্কার অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।

একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কার্যত থমকে গেছে এবং নারীরা কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালের জুনে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে জিডিপির তুলনায় বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ ৮ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন। ২০২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে জিডিপির ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, জ্বালানি ও কৃষি ভর্তুকি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে। তবে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই এখনো কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।

ফলে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করার প্রয়োজন রয়েছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছরে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে ২০২৭ সালে এই প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

সংস্থাটি বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এআই এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪