| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বগুড়া অঞ্চলে ভুলে ভরা ভূমি জরিপ, ৪০ বছরেও শেষ হয়নি আরএস জরিপ

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৭, ২০২৬ ইং | ১২:২২:১৩:অপরাহ্ন  |  ১২৬৮ বার পঠিত
বগুড়া অঞ্চলে ভুলে ভরা ভূমি জরিপ, ৪০ বছরেও শেষ হয়নি আরএস জরিপ

বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়া অঞ্চলে (বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলা) ১৯৮৫ সালে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে শুরু হওয়া ভূমি জরিপ চার দশকেও শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জরিপ-সংক্রান্ত ভুল ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতেই ব্যস্ত রয়েছে বগুড়া সেটেলমেন্ট কার্যালয়। এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও বগুড়া অঞ্চল এখনো সেই সুবিধার বাইরে। ফলে ভূমির মালিকরা আধুনিক ও নির্ভুল ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ সালে বগুড়া অঞ্চলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ শুরু হয়। জরিপের কাজে নিয়োজিত অনেকেই চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনিয়ম ও দুর্নীতির পাশাপাশি তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে জরিপে ব্যাপক ভুল-ত্রুটি থেকে যায়। সেই ভুলের মাশুল এখনো দিতে হচ্ছে ভূমির মালিকদের।

জরিপের ভুলের মধ্যে রয়েছে নকশার সঙ্গে পর্চার অমিল, দাগ নম্বরে ভুল, এক ব্যক্তির জমি অন্য ব্যক্তির নামে রেকর্ড হওয়া এবং জমির পরিমাণ ও শ্রেণিতে অসঙ্গতি। এসব ভুল সংশোধনের জন্য বছরের পর বছর ধরে ভূমির মালিকদের অভিযোগ ও মামলা করতে হচ্ছে।

বগুড়া সদরের মালগ্রাম মৌজায় নতুন করে আরএস রেকর্ডের পর্চা প্রকাশের পর শত শত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আকবর আলী মণ্ডলের ছেলে আব্দুল হালিম মণ্ডলের নামে ৬০টি দাগে মোট ৪ একর ১৭ শতাংশ জমি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ওই জমির বিষয়ে তার নামে কোনো দলিলের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার কোশাস গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ২০২২ সালের আগস্টে বগুড়ায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ চালুর জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, চার দশক আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জরিপ শুরু হলেও তা এখনো সম্পন্ন হয়নি। বগুড়া অঞ্চলের ভূমি সেবা আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে মৌজাগুলোকে ডিজিটাল জরিপের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

একই দাবিতে বগুড়া সদরের মালগ্রাম এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে আব্দুল বাতেনও ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। তাঁর আবেদনে বলা হয়, ৪০ বছর আগের নকশা ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এ সময়ে অনেক ফসলি জমি, পুকুর ও ঝোপঝাড়ের জায়গায় বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে। ফলে পুরোনো নকশার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার প্রায় ৮০ শতাংশ মিল নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো রেকর্ড অনুযায়ী জমির শ্রেণি নির্ধারণ করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

এদিকে এসব বিষয়ে মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করলে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ আইনানুগ সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দেন। তবে এরপরও মালগ্রাম মৌজার প্রায় ৫৫ বিঘা জমি নিয়ে একটি বাটোয়ারা মামলায় ডিক্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামে রেকর্ড না হওয়ায় জটিলতা রয়ে গেছে।

এ কারণে বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ৪২ ধারায় ভুল ও ভুয়া রেকর্ড সংশোধনের জন্য দুই শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মালগ্রাম মৌজার ভুল রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে হাইকোর্টে দুটি রিট মামলাও চলমান রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, ভুল রেকর্ড গেজেট আকারে প্রকাশিত হলে এসব জমি নিয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে আরও হাজার হাজার মামলা হতে পারে। পাশাপাশি জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থেকে সংঘাত, হামলা এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মোছা. রওনক জাহান আগের জরিপে ব্যাপক ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া কর্মীদের অনেকেই চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছেন। তাঁদের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় জরিপে ব্যাপক অনিয়ম ও ভুল রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

মালগ্রাম মৌজায় একই ব্যক্তির নামে ৪ একর ১৭ শতাংশ জমি রেকর্ড হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জরিপের সময় হয়তো সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ কারণে পাশের জমির মালিকের নামে ওই জমি রেকর্ড হয়ে থাকতে পারে।

তবে ওই ব্যক্তির ৬০টি দাগে জমি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁর নামে জমিগুলো রেকর্ড হলো, সে বিষয়ে সেটেলমেন্ট কার্যালয় থেকে তদন্ত করা হয়নি বলেও জানান তিনি। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিকরা অভিযোগ করলে তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নামে জমি রেকর্ড করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪