| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অবকাঠামোগত বেহাল দশায় পর্যটক হারাচ্ছে মধুটিলা ইকোপার্ক

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৮, ২০২৬ ইং | ১৩:৫১:২৮:অপরাহ্ন  |  ৩০৭ বার পঠিত
অবকাঠামোগত বেহাল দশায় পর্যটক হারাচ্ছে মধুটিলা ইকোপার্ক

শেরপুর প্রতিনিধি: পাহাড়, টিলা আর সবুজের হাতছানিতে ঘেরা প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্ক। মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পোড়াগাঁও ইউনিয়নে প্রায় ৩৮০ একর বনভূমি নিয়ে ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে এ পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজারো ভ্রমণপিপাসু প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসতেন এখানে।

তবে দীর্ঘদিনের সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে মধুটিলা ইকোপার্ক এখন তার পুরোনো ঐতিহ্য ও জৌলুশ হারাতে বসেছে। এক সময়ের জমজমাট এই পর্যটনকেন্দ্রে বর্তমানে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার বেশিরভাগই অচল কিংবা জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।

২০০৪ সালে পার্কটির প্রথম পর্যায়ের উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর গত দুই দশকে বড় ধরনের কোনো উন্নয়ন বা সংস্কার কাজ হয়নি। সময়ের সঙ্গে পর্যটকদের প্রত্যাশা ও চাহিদা বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা। বরং দীর্ঘদিনের অযত্নে বিদ্যমান স্থাপনাগুলোও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের তথ্য ও প্রদর্শনী কেন্দ্রগুলোর অনেকগুলোই তালাবদ্ধ কিংবা ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে। তথ্যকেন্দ্রটির ভেতরে বর্তমানে এক ভবঘুরে বসবাস করছেন। এতে ভবনটির ভেতরের পরিবেশ নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।

মধুটিলা ইকোপার্কের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন পশু-পাখির ভাস্কর্য ও বিনোদনের নানা ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘদিনের পরিচর্যার অভাবে হাতি, বাঘ, হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্যগুলো এখন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

নামে ‘মিনি চিড়িয়াখানা’ থাকলেও সেখানে বর্তমানে কোনো পশু-পাখির দেখা মেলে না। বরং চিড়িয়াখানার প্রবেশগেটে ঝুলছে তালা। শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপিত বিভিন্ন রাইডও দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

শুধু তাই নয়, পার্কের কৃত্রিম লেক, ওয়াচ টাওয়ার ও শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ফলে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক ও বিনোদন সুবিধার অভাবে অনেক পর্যটক হতাশ হয়ে ফিরছেন।

পার্কের অবকাঠামোগত এমন বেহাল দশার মধ্যেই সম্প্রতি প্রবেশমূল্য ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। কোনো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বা সেবার মান না বাড়িয়ে একলাফে টিকিটের দাম পাঁচগুণ বাড়ানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা।

অনেক পর্যটক বলছেন, প্রবেশমূল্য বাড়ানোর আগে পার্কের অবকাঠামো সংস্কার, নিরাপদ পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শৌচাগার, বিনোদন রাইড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। এসব সুবিধা না থাকায় অতিরিক্ত টিকিট মূল্য তাদের কাছে অসঙ্গত মনে হচ্ছে।

ক্ষুব্ধ এক দর্শনার্থী বলেন, পার্কের ভেতরে হাঁটার মতো ন্যূনতম পরিবেশ নেই, রাইডগুলো সব ভাঙা। শৌচাগার ও খাওয়ার পানির তীব্র সংকট। কোনো নতুন সুযোগ-সুবিধা না দিয়ে হঠাৎ টিকিট ফি ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা একদম অন্যায়।

দর্শনার্থীদের অভিযোগ, বর্তমানে পার্কের অবস্থা দেখে অনেকেই মূল ফটক থেকেই ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, অন্যদিকে সম্ভাবনাময় এই পর্যটনকেন্দ্রটি ধীরে ধীরে আকর্ষণ হারাচ্ছে।

মধুটিলা ইকোপার্কের বর্তমান পরিস্থিতি ও সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মধুটিলা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, ২০০৪ সালের পর পার্কটিতে আর কোনো বড় ধরনের উন্নয়ন কাজ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো এসব স্থাপনা এখন জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পার্কটি সংস্কার ও উন্নয়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় এমপি মহোদয়কে জানানো হবে, যাতে বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে পার্কটির পুরোনো রূপ ফিরিয়ে এনে আবার পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্ক। পাহাড়, টিলা, বনভূমি ও সীমান্তবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এ কেন্দ্রের। তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে শুধু প্রবেশমূল্য বাড়ানো নয়, প্রয়োজন অবকাঠামোর আধুনিকায়ন ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা।

সঠিক তদারকি, নিয়মিত পরিচর্যা, পুরোনো স্থাপনাগুলোর সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে মধুটিলা ইকোপার্ক আবারও তার হারানো জৌলুশ ফিরে পেতে পারে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় সীমান্তবর্তী এ পর্যটনকেন্দ্রটি আবারও মুখর হয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় অধিবাসী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম 

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪