| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বিএনপির তালিকাভুক্তরাই পেলেন ‘সারের ডিলারশিপ’

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ০৯, ২০২৬ ইং | ২২:০১:০০:অপরাহ্ন  |  ২১২ বার পঠিত
বিএনপির তালিকাভুক্তরাই পেলেন ‘সারের ডিলারশিপ’

রংপুর প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রংপুরের পীরগাছায় দলীয় প্যাডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরাই ‘কৃষি সার ডিলার’ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে পীরগাছায় সার ডিলার মনোনয়নে কোটি টাকার বাণিজ্যসহ স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ উঠেছে জোরালোভাবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকার বিবরণীতে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসককে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি’ কর্তৃক সুপারিশকৃত গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রেরিত স্মারকের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ‘সার ডিলার সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটি’ কর্তৃক অনুমোদিত আবেদনকারীদের অস্থায়ীভিত্তিতে শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে সার ডিলার নিয়োগের পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

গত ৭ অক্টোবর প্রকাশ হওয়া ওই তালিকায় সার ডিলার নিয়োগ সংক্রান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটি থেকে কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার এতে স্বাক্ষর করেছেন।

এতে সার ডিলার হিসেবে পীরগাছা উপজেলার নয়জনের নাম ছাড়াও রংপুর সদর উপজেলার মনোনীত চারজন, কাউনিয়া উপজেলার ছয়জন, তারাগঞ্জ উপজেলার তিনজন, বদরগঞ্জে নয়জন, মিঠাপুকুরে ১৪ জন, পীরগঞ্জে ১৬ জন, গঙ্গাচড়ায়  নয়জন এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশনে একজন মনোনীত সার ডিলার ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর দলীয় প্যাডে উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত ‘ডিলার নিয়োগ-২০২৬ এর তথ্য’ শিরোনাম সংবলিত তালিকাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রংপুরের জেলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও ‘জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি’র সভাপতি বরাবর সুপারিশকৃত একটি তালিকা জমা দেন।

পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বাক্ষরিত ‘ডিলার নিয়োগ-২০২৬ এর তথ্য’ শিরোনাম সংবলিত তালিকাসহ বিভিন্ন নথিতে দেখা গেছে, পীরগাছা উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ১৯ জনের ওই তালিকায় বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ তাদের স্ত্রী, অনার্স পড়ুয়া মেয়ে, ছেলে, শ্বশুর, ফুফাতো ভাই ছাড়াও আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের নামও ছিল।

তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশের আগে আলোচিত পীরগাছায় সার ডিলার হিসেবে মনোনীত হলেন যারা:

কল্যাণী ইউনিয়নে সার ডিলারের জন্য মনোনীত হয়েছে জেলা কমিটির সুপারিশ তালিকার এক নম্বরে থাকা জিকরুল আমিনের বেলী ফার্টিলাইজার। জিকরুল আমিন কল্যাণী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের স্ব-চাষ এলাকার মরহুম আরমান আলীর ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা স্বাক্ষরিত তালিকাতেও জিকরুল আমিনের নাম প্রথমে ছিল।

পারুল ইউনিয়নেও উপজেলা ও জেলা থেকে সুপারিশকৃত তালিকার এক নম্বরে থাকা মো. আব্দুল মতিন সরকারের মেসার্স নুহা ট্রেডার্স সার ডিলার হিসেবে মনোনীত হয়েছে। তিনি চার নম্বর ওয়ার্ডের তালুক পারুল গ্রামের তাহারত উল্লাহর ছেলে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন আব্দুল মতিন সরকার।

ইটাকুমারী ইউনিয়ন থেকে ছয় নম্বর ওয়ার্ডের মধুরাম গ্রামের মরহুম ময়েন উদ্দিনের ছেলে মো. আলিমুদ্দিনকে সার ডিলার মনোনীত করা হয়েছে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম মেহজাবিন ট্রেডার্স। আলিমুদ্দিনের ছোট জামাতা মাসুদ রানা ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

অন্নদানগর ইউনিয়ন থেকে মনোনীত করা হয়েছে উপজেলা ও জেলা থেকে সুপারিশকৃত তালিকার প্রথমে থাকা নয় নম্বর ওয়ান্দের জগজীবন এলাকার জয়িতা আক্তার জিনি। তার প্রতিষ্ঠানের নাম জয়িতা সার বিতান। তিনি ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমানের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে এবং দিনাজপুর সরকারি কলেজের বাংলা চতুর্থ বর্ষের অনার্সের শিক্ষার্থী।

ছাওলা ইউনিয়নে সার ডিলারের জন্য মনোনীত হয়েছে জাকির হোসেনের মেসার্স আয়মান ট্রেডার্স। তিনি আট নম্বর ওয়ার্ডের আদম চাড়ালপাড়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির সহকোষাধ্যক্ষ। বিএনপি সভাপতির স্বাক্ষরিত প্যাডে এবং উপজেলা ও জেলা থেকে সুপারিশকৃত তালিকায় তার নামও প্রথমে ছিল।

তাম্বুলপুর ইউনিয়নে রয়েছেন এক নম্বরে থাকা সুইটি বেগম। তিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিসের স্ত্রী। সার ডিলার হিসেবে মনোনীত হওয়া তার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স সামান্তা অ্যান্ড সিফা ট্রেডার্স।

পীরগাছা সদর ইউনিয়নে সার ডিলারের জন্য মনোনীত হয়েছে মোছা. সুলতানা ফেরদৌসীর প্রতিষ্ঠান রিয়া এন্টারপ্রাইজ। তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গার স্ত্রী।

কৈকুড়ি ইউনিয়ন থেকেও এক নম্বর ক্রমিকে থাকা চার নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী রানী গ্রামের মীর তৌফিক হাসানকে সার ডিলার হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি ওই ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মীর আফসার আলীর ছেলে। তার প্রতিষ্ঠানের নাম মীর তৌফিক ট্রেডার্স।

কান্দি ইউনিয়ন থেকে মেসার্স সান ট্রেডার্সকে মনোনীত করা হয়েছে। এটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানের প্রতিষ্ঠান। তিনি ওই ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের তালুক কান্দি নিজপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তার বড় ভাই আনিছুর রহমান ভুট্টু ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, উপজেলার নয় ইউনিয়নের মধ্যে সার ডিলার নিয়োগের নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, কল্যাণী ইউনিয়নে ১৫ লাখ, ইটাকুমারীতে ১৭ লাখ, অন্নদানগরে ১৫ লাখ, পারুলে ১৮ লাখ, কান্দিতে সর্বোচ্চ ২৭ লাখ, ছাওলায় ২৩ লাখ এবং কৈকুড়িতে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। সাত ইউনিয়নের কথিত অর্থের হিসাব যোগ করলে দাঁড়ায় এক কোটি ৩১ লাখ টাকা।

এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙা। তবে সহযোগী হিসেবে সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিসের নামও উঠে এসেছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, ডিলার বাছাইয়ে ওই দুই নেতা প্রভাব বিস্তার করেছেন। তাদের অভিযোগ, পছন্দের প্রার্থীকে ডিলার করতে কোথাও অর্থ লেনদেন হয়েছে, আবার কোথাও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করা হয়েছে। এই সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান। তার অভিযোগের মধ্যে ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং পছন্দের প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়ার বিষয় রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা সারের ডিলার নিয়োগে টাকা গ্রহণের বিষয়টি মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিস।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪