| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

উজিরপুরে ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী জসিমের কোটি টাকার সম্পদ, দুদকের অনুসন্ধানের দাবি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ইং | ২১:১২:১৬:অপরাহ্ন  |  ৭৮৭ বার পঠিত
উজিরপুরে ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী জসিমের কোটি টাকার সম্পদ, দুদকের অনুসন্ধানের দাবি

উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী মোহরার মো. জসিম উদ্দিনের রাতারাতি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ একজন মোহরারের সামান্য বেতনের চাকরিজীবনের সাথে তাঁর কথিত বিপুল সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন দেখা দিয়েছে। তাঁর এই অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

​দ্রুত সময়ে আলিশান বাড়ি ও বিপুল সম্পদ

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে উজিরপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে মোহরার পদে যোগ দেন মো. জসিম উদ্দিন। চাকরিতে যোগদানের পর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানেই অলৌকিকভাবে বদলে যেতে থাকে তাঁর জীবনযাত্রা ও আর্থিক অবস্থা। স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও তিনি এলাকায় তৈরি করেছেন চোখধাঁধানো আলিশান বাড়ি। উক্ত বাড়ি নির্মাণে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এছাড়া নিজ নামে ও পরিবারের নিকটাত্মীয়দের নামে একাধিক স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তোলার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

​সম্পদের বৈধতা ও সরকারি নথি যাচাইয়ের দাবি

​স্থানীয়দের একাংশের মতে, সরকারি স্কেল অনুযায়ী একজন মোহরারের যে বেতন-ভাতা, তা দিয়ে এত স্বল্প সময়ে আলিশান বাড়ি বা বিপুল সম্পদ অর্জন করা সাধারণ সমীকরণে কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন— জসিম উদ্দিনের নিজের নামে, স্ত্রীর নামে কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে, তার সঠিক তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। এজন্য জমি হস্তান্তরের মূল দলিল, সংশ্লিষ্ট খতিয়ান, নামজারি (মিউটেশন) ও সরকারি ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি প্রতি বছর তিনি আয়কর বিবরণীতে (ট্যাক্স রিটার্ন) কী পরিমাণ সম্পদ প্রদর্শন করেছেন, তা-ও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তাঁরা।

​দাপ্তরিক অনিয়ম ও দুদকের তদন্ত চান এলাকাবাসী

​সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, জমির দলিল সম্পাদন, নামজারি প্রসেসিং ও দাপ্তরিক বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এই বিপুল সম্পদের বিকাশ ঘটে থাকতে পারে। সরকারি নথিপত্রে যদি তাঁর আয়ের সাথে অর্জিত সম্পদের স্পষ্ট অসংগতি পাওয়া যায়, তবে কেবল বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নয়, দুর্নীতি দমন আইনের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

​অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের বক্তব্য মেলেনি

​উত্থাপিত অভিযোগ এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়ে মোহরার মো. জসিম উদ্দিনের বক্তব্য গ্রহণের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সংবাদে হুবহু যুক্ত করা হবে।

​সুষ্ঠু অনুসন্ধান অব্যাহত

​জসিম উদ্দিনের এই অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বিষয়টি বর্তমানে উজিরপুরের প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও স্থাবর সম্পদের বস্তুনিষ্ঠ নথি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সত্যতা উন্মোচনে অনুসন্ধানী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য-প্রমাণ ও দাপ্তরিক নথির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪