| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেরপুরে ডেঙ্গু-হামের ভয়াবহ থাবা, হামে ৪ শিশুর মৃত্যু

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ইং | ১১:৩৬:৩৭:পূর্বাহ্ন  |  ২৯০ বার পঠিত
শেরপুরে ডেঙ্গু-হামের ভয়াবহ থাবা, হামে ৪ শিশুর মৃত্যু

তপুসরকার হারুন: সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা সংকট। পর্যাপ্ত শয্যা, ওষুধ ও জনবলের অভাবে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। তবে রোগীদের যথাসাধ্য চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে যেকোনো সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তাঁরা।

শেরপুর সংবাদদাতা ফজলুল করিমের তথ্য ও ছবিতে বিস্তারিত প্রতিবেদন।

শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত রোগীর চাপ। হাসপাতালের মেডিসিন, শিশু ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত শয্যার বাইরে মেঝে ও বারান্দায়ও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা, অন্যদিকে বাড়ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি রয়েছেন ৪৬ জনেরও বেশি। এ ছাড়া ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন আরও প্রায় ৬৫ জন। হামের জন্য ১৫টি এবং ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৬টি শয্যা নির্ধারিত থাকলেও প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যাসংকট। ফলে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

শুধু শয্যাসংকটই নয়, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে রোগীদের। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার পাশাপাশি অনেক ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। মেঝেতে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নেওয়ায় রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও অনেক রোগী মশারি না পেয়ে খোলামেলা বারান্দায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে মশার কামড়ের ঝুঁকির পাশাপাশি চিকিৎসার পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবায় পর্যাপ্ত নার্স ও জনবল না থাকায় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা অভিযোগ করে বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের অনেক কিছুই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এমনকি বারান্দায় মশারি ছাড়াই থাকতে হচ্ছে রোগীদের। নার্সদের কাছ থেকেও সময়মতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের।

ভক্সপপ–১: হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলায় এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্তদের বড় একটি অংশ রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে শেরপুরে এসেছেন। তবে জেলার অভ্যন্তরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, শয্যাসংকট এবং চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতার কারণে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন।

শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান বলেন, হামে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু ও হামে আক্রান্ত হয়ে আলাদা আলাদা ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্তদের বেশির ভাগই বাইরের জেলা থেকে এলেও শেরপুরের অভ্যন্তরেও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সট–১: ডা. মো. সাজ্জাৎ হাসান তত্ত্বাবধায়ক, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল।

পেঅফ

ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি, শয্যাসংকট, ওষুধের ঘাটতির অভিযোগ এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল—সব মিলিয়ে চাপের মুখে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন বাড়তে থাকা রোগীর চাপ সামাল দিতে দ্রুত পর্যাপ্ত শয্যা, চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ জোরদার করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪