| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

দুই হাত নেই, পায়ের আঙুলে লেখেন, দুঃখু মিয়ার পাশে দাঁড়ালেন নরসিংদীর ডিসি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ইং | ১৪:৪১:৪৬:অপরাহ্ন  |  ৬১ বার পঠিত
দুই হাত নেই, পায়ের আঙুলে লেখেন, দুঃখু মিয়ার পাশে দাঁড়ালেন নরসিংদীর ডিসি

নরসিংদী প্রতিনিধি: জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। তবু থেমে থাকেননি জীবনসংগ্রামে। পায়ের আঙুলের সাহায্যে লেখাপড়া শিখে অর্জন করেছেন স্নাতক ডিগ্রি। এরপর নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন নরসিংদীর সদর উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের নগর পাঁচদোনা এলাকার শিক্ষক আলতাফ হোসেন ওরফে দুঃখু মিয়া। তাঁর এই অদম্য জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষার প্রতি নিষ্ঠার কথা গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পাশে দাঁড়িয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন।

দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’ পরিদর্শন করেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক দুঃখু মিয়াকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুলব্যাগ, পানির পট, ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও দাবা খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রোপণের জন্য ১৫০টি বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা দেওয়া হয়।

নগর পাঁচদোনা এলাকার একটি জীর্ণ টিনশেড শ্রেণিকক্ষে চলছে বিদ্যালয়টির কার্যক্রম। সীমিত অবকাঠামো ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও পায়ের আঙুলের সাহায্যে পাঠদান করে যাচ্ছেন দুঃখু মিয়া। তাঁর এই ব্যতিক্রমী জীবনসংগ্রাম ও শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা স্থানীয়ভাবে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে দুঃখু মিয়া বলেন, চরম আর্থিক সংকটের কারণে বিদ্যালয়টি বড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এলাকার শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে একটি পূর্ণাঙ্গ মডেল উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে চান। নিজের শারীরিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার দুটি হাত নেই, কিন্তু এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রয়েছে শত হাত। এটাই আমার জীবনের বড় সার্থকতা।

দুঃখু মিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর নন, পুরো দেশের গর্ব। তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, মনোবল ও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে জেলা প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

নিজের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো কোনো জেলা প্রশাসককে সরাসরি পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুঃখু মিয়া। তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে এটি সবচেয়ে সেরা পাওয়া। স্কুল প্রতিষ্ঠার পর অনেক জায়গায় গিয়েছি। সবাই আশ্বাস দিলেও কেউ কোনো দিন আমার স্কুলে আসেননি। এবারই প্রথম সরকারি সহযোগিতা পেলাম, তাও জেলা প্রশাসক নিজে এসে দিয়েছেন। তার আসার পর মনে হচ্ছে, মডেল উচ্চবিদ্যালয় গড়ার স্বপ্ন এবার বাস্তবায়িত হবে।’

জন্মের পর থেকেই দুই হাতবিহীন দুঃখু মিয়ার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল নানা বাধার মধ্য দিয়ে। শৈশবে মাদ্রাসায় ভর্তি হতে গেলে পা দিয়ে বই ধরতে পারবেন না এমন কারণ দেখিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিকূলতার কাছে হার মানেননি তিনি। বাবা-মায়ের সহযোগিতায় কলাপাতায় পাতিলের কালি দিয়ে পায়ের আঙুলে লেখার অনুশীলন শুরু করেন। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে নরসিংদী সরকারি কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।

উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে একাধিক সরকারি-বেসরকারি চাকরির সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর। কিন্তু হতাশ হয়ে বসে থাকেননি। ২০০৭ সালে পৈতৃক জমিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন’। বর্তমানে প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার নিরলস প্রচেষ্টা।

প্রতিকূলতাকে জয় করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাওয়া এই শিক্ষককে সম্মান জানিয়ে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছে জেলা প্রশাসন। দুঃখু মিয়ার স্বপ্ন পূরণে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেই প্রত্যাশায় রয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪