মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরে মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে গুটিকয়েক পেশাদার সাংবাদিকদের সমন্বয়ে নামসর্বস্ব গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের প্রাধান্য দিয়ে সেমিনার আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
সরকারি পরিপত্র অমান্য করে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান বাদ দিয়ে শিক্ষকদের এ ধরনের সেমিনারে অংশ নেওয়া এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ক্ষোভে প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে মেহেরপুর জেলা প্রেস ক্লাব ও মেহেরপুর রিপোর্টার্স ক্লাব যৌথভাবে অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন।
বুধবার সকালে মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের মিনি সম্মেলন কক্ষে পিআইবির উদ্যোগে ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে "তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে গণমাধ্যম কর্মীদের সচেতনতা ও ফ্যাক্ট চেকিং" শীর্ষক তিন দিনব্যাপী সেমিনার এবং মিনি সম্মেলন কক্ষে পিআইডির পৃথক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। তবে জেলায় দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত প্রকৃত ও পেশাদার সাংবাদিকদের বড় একটি অংশকে এসব কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়। এমনকি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বেতারের মেহেরপুর প্রতিনিধিকেও এই সেমিনারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, মেহেরপুরের গুটিকয়েক সাংবাদিক ও একটি নির্দিষ্ট প্রেসক্লাবের সদস্যদের প্রভাবিত করে আমন্ত্রণের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, কোনো সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী কর্মঘণ্টায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ফেলে অন্য কোনো পেশাগত বা লাভজনক কাজে যুক্ত হতে পারবেন না। অথচ সরকারি পরিপত্রের তোয়াক্কা না করে একাধিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা সাংবাদিক হিসেবে সেমিনারে অংশ নেন।
বাংলাদেশ বেতারের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পিআইডি সদস্যদের সঙ্গে আঁতাত করে এ রকম একটি বিতর্কিত তালিকা তৈরি করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও তারা একই কাজ বারবার করেছে। পিআইডি, পিআইবি এবং তথ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ক্ষেত্রে এই চক্রটি বরাবর সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই ফ্যাসিস্ট সরকার এখন আর নেই, কিন্তু আগের সেই সব সুবিধাভোগী রাতারাতি ভোল পরিবর্তন করে একইভাবে নতুন সরকারের প্রশাসনের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে।
মেহেরপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মাহাবুবুল হক পোলেন এ বিষয়ে বলেন, সেমিনারে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের বড় অংশেরই মাঠে কোনো সক্রিয়তা নেই। শুধু সেমিনার আর ভাতা পাওয়ার সেশনগুলোতেই তাদের দেখা মেলে। মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের পরিকল্পিতভাবে বাদ দিয়ে তথাকথিত ও নামসর্বস্ব পত্রিকার প্রতিনিধিদের এনে এই প্রশিক্ষণ চালানো হচ্ছে, যা অপসাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করার সামিল।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে খুলনার অতিরিক্ত তথ্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মূলধারার সাংবাদিকদের সেমিনারে নিশ্চিত করতে না পারার ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খান এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব